পূর্ব রাজাবাজারের অভিজ্ঞতা ও লকডাউন ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ২১:৫৩

মো. ইমরান হোসেন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যার ভিত্তিতে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রেড জোনভুক্ত এলাকাগুলোতে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই মুহূর্তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০টি এলাকাকে লকডাউন করার প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া গত ১০ জুন থেকে ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে লকডাউন। ২১ দিনের এই লকডাউন চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের বাইরেও লকডাউনের আওতায় আসা এলাকাবাসীর রয়েছে নানান দায়িত্ব। জনসাধারণ সেই দায়িত্ব পালনে আন্তরিক না হলে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

স্বেচ্ছাসেবকগণ যেহেতু মানুষের প্রয়োজনীয় কাজ করে দিচ্ছেন, সেহেতু অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসী কোনো কাজে তাদের উত্পাত না করবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। যেমন মধ্যরাতে আপনি মোরগপোলাও বা হাজির বিরিয়ানির দরকারের কথা বলতে স্বেচ্ছাসেবককে কল করবেন না। আপনার গভীর রাতের বারবিকিউ পার্টির পোলট্রি আনার সময়টায় হঠাত্ শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর জন্য নেবুলাইজার আনার কাজটি স্বেচ্ছাসেবকদের করতে দিন। আপনার মেকআপ বক্স আনার কাজ করিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করবেন না। জরুরি প্রয়োজনে আপনি যখন বাইরে বের হবেন, তখন মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস পরে নিন। আর সর্বাবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি (যেমন সাবান পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, নাকে-মুখে হাত দেওয়া বন্ধ করা প্রভৃতি) মেনে চলতে হবে। পরিবারের যে কারো মধ্যে করোনার উপসর্গ (যেমন সর্দি, জ্বর, কাশি প্রভৃতি) দেখা গেলে তাকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে এবং তার করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। তবে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। পূর্ব রাজাবাজারে সরবরাহকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এই পণ্যসামগ্রীর মূল্য যাতে স্বাভাবিক থাকে—সেটি নিশ্চিত করতেও পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখতে হবে। লকডাউনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসরঞ্জাম (যেমন মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস, গগলস, বিশেষ পোশাক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রভৃতি) নিশ্চিত করতে হবে। পুরো এলাকায় জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন জীবাণুনাশক স্প্রে কোনোভাবেই কোনো মানুষের শরীরে না লাগে। এছাড়া লকডাউন করা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ব্যবহূত মাস্ক ও সুরক্ষাসামগ্রীগুলো পৃথক ও বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংস করতে হবে। আর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো, মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। সেজন্য লকডাউনঘোষিত নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতিটি প্রবেশপথেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।

শেষকথা হলো, ঝুঁকিপূর্ণ রেড জোন অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা করলেই করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে না; এজন্য সরকার, স্বেচ্ছাসেবক ও জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরি। লকডাউনে জনসাধারণকে যেমন দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে, তেমনি সরকারকে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে লকডাউন ব্যবস্থাপনা করতে হবে। তাহলেই একটি লকডাউন সফল করা সম্ভব হবে। আশা করি, সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা করোনাবিরোধী যুদ্ধে জয়ী হতে পারব।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়