আনারস ও কলাগাছের বর্জ্যে তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন পণ্য

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ২১:৫৮

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

৫০ একরে আনারস ও কলার আবাদ আশিকুরের। ফল তোলার পর  গাছ ও পাতার বর্জ্য থাকে খেত জুড়ে। বাড়তি শ্রমিক দিয়ে তা সরাতে হয়। কিন্তু এবার বর্জ্যের বিড়ম্বনা নেই। কুড়িয়ে নিচ্ছেন মধুপুর উপজেলার কাকড়াগুনির আনোয়ার হোসেন। তার বাড়ির কারখানায় বর্জ্য রি-সাইক্লিংয়ে হচ্ছে সমৃদ্ধ আঁশ। এ আঁশ চালান যাচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্প ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রডাক্টে’র বগুড়া, রংপুর ও নীলফামারীর কারখানায়। সেখানেই তৈরি হচ্ছে কম্বল, কার্পেটসহ দৃষ্টিনন্দন সামগ্রী। আনোয়ার জানান, তার আঁশ কারখানায় জনাপঞ্চাশ কাজ করেন। আঁশের প্রচুর চাহিদা। কাঁচামালের প্রাচুর্য রয়েছে। নেই শুধু পুঁজি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, মধুপুর গড়ের সাত উপজেলায় প্রায় ৪৫ হাজার একরে কলা ও আনারস হয়। ফল আহরণের পর এসব কৃষি বর্জ্য পচে যায়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ইন্স্পায়ার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে মধুপুরে প্রথম এ কাজ শুরু করে। কারখানায় বাহারি হাত ও ভ্যানিটি ব্যাগ, গহনার বাক্স, ওয়ালম্যাট, টিস্যুবক্স, কলমদানিসহ আকর্ষণীয় অলংকার তৈরি হতো। বর্তমানে ব্যুরো বাংলাদেশের হ্যান্ডিক্রাফট বিভাগ এটি দেখাশোনা করছে। সংস্থার সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম জানান, এসব বর্জ্য থেকে সুতা ও কাপড় তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি সম্ভব। আঁশ উত্পাদন বাণিজ্যিকভাবে হলে বিদেশ থেকে সুতা আমদানি হ্রাস পাবে। গার্মেন্টস খাতে নতুন অনুষঙ্গ যোগ হবে। বাংলাদেশ ক্লাসিক্যাল হ্যান্ড মেইড প্রডাক্টের  কর্ণধার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাওহিদ বিন আব্দুস সালাম জানান, নর্থ বেঙ্গলে তিন কারখানায় ২ হাজার হতদরিদ্র  নারী কাজ করেন। কম্বল, ফ্লোর কার্পেটসহ ৫০ কোটি টাকার পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকাসহ ৩৭ দেশে রফতানি হয়। মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, এভাবে কৃষি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব।