আবির্ভাবেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তারপর আরো দুটি আসর খেলেছে দলটি। শিরোপার নাগাল পায়নি। এবারের আসরটি কুমিল্লার চতুর্থ বিপিএল। যে আসর মাতানোর সব রসদই নিজেদের তাঁবুতে এনে জড়ো করেছে দলটি। দেশীয় ও বিদেশি ক্রিকেটার মিলে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল কুমিল্লা। কাগজে-কলমে শক্তিমত্তার হিসেবে শিরোপারও দাবিদার বলা যায়।
স্টিভ স্মিথ, এভিন লুইস, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিকরা আছেন বিদেশি কোটায়। স্থানীয়দের মাঝে তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনিরা দলটির বড় ভরসা। বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল, পেস বোলার মোহাম্মদ শহীদ, অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহা দ্বীপ, ব্যাটসম্যান শামসুর রহমানও কুমিল্লা শিবিরে রয়েছেন। এই দল নিয়ে ফাইনালে খেলতে চান ইমরুল কায়েস।
টানা চতুর্থ মৌসুম কুমিল্লার হয়ে বিপিএল খেলবেন বাঁহাতি এই ওপেনার। দল অনেক আশাবাদী অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। এবারের আসরে দলগত লক্ষ্য জানতে চাইলে ইমরুল গতকাল বলেছেন, ‘গত বছরটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল। আমাদের প্রথম রাউন্ড দেখেছিলেন যে আমরা বেশ ভালোভাবে শেষ করেছি। দুটি ম্যাচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা হেরে গিয়েছি। কুমিল্লায় আমি গত চার পাঁচ বছর খেলেছি, আমাদের প্রত্যেকটি বছরই লক্ষ্য থাকে ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার এবং ফাইনালে খেলা। আমার কাছে মনে হয় এই বছর আমাদের সবার লক্ষ্য আছে ফাইনালে খেলার এবং সবাই ওভাবেই মানসিকভাবে প্রস্তুত আছে। সবাই অনেক আশাবাদী যে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।’
একাদশে সাত দেশীয় ও চার বিদেশি ক্রিকেটার খেলানো যাবে। স্মিথ-এভিন লুইসরা থাকলেও দেশীয় ক্রিকেটারদের উপরই বড় নির্ভরতা থাকবে। তাদের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হবে টুর্নামেন্ট জয়ে। ইমরুল বলেছেন, এনামুল হক বিজয় আসায় কুমিল্লার ব্যাটিং অর্ডার পোক্ত হয়েছে। মিডল অর্ডারে বিজয়ের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলনের আগে দেশীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের গুরুত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে ইমরুল বলেছেন, ‘প্রত্যেক বছরই তাদের (দেশীয় ক্রিকেটার) গুরুত্ব থাকে অনেক। স্থানীয় ক্রিকেটাররা কিন্তু খারাপ খেলে না, পারফরম্যান্স ভালোই করে। তামিম সবসময় বিপিএল ভালো খেলে, আমিও চেষ্টা করি ভালো করার। এমনকি আমার কাছে মনে হয় বিজয়ও ভালো টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান। সবমিলিয়ে বিজয় দলে আসাতে অনেক ব্যালেন্সড দল হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার কাছে মনে হয় আমরা এই জায়গার ঘাটতিটি পূরণ করতে পারবো। বিজয় যদি ঠিকমতো খেলতে পারে আমার কাছে মনে হয় কুমিল্লার টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারের সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে।’
ভারসাম্যপূর্ণ দলই আশাবাদী করছে ইমরুলকে। দল হিসেবে মাঠে সেরাটা দেয়ার আশা করছেন তিনি। বাঁহাতি এই ওপেনার গতকাল বলেছেন, ‘আমাদের এবারের দলটি অনেক ব্যালেন্সড দল। অনেক ভালো দল বানিয়েছে। আমরা যদি আমাদের নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারি তাহলে ভালো একটা কিছু সম্ভব হবে। এরপরেও ক্রিকেট একটি অনিশ্চয়তার খেলা, এটি বলা কঠিন। তবে আমরা সবাই চেষ্টা করবো আমাদের সেরাটা দেয়ার জন্য এবং দলের সেরা পারফরম্যান্সটি করার জন্য।’
