নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চীনা সেনারা!

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ২৩:৩৭

দিল্লি-বেইজিং সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই গালওয়ান এলাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সীমানায় ঢুকে ঢুকে বসে আছে চীনের সেনারা! এমনকি তারা সেখানে নির্মাণকাজও চলমান রেখেছে। উপগ্রহ চিত্র থেকে এর প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে ভারতের এনডিটিভি।  তারা পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ এর চিত্র প্রকাশ করেছে। গত ১৫ জুন এখানেই সংঘাতে জড়িয়েছিল দুই দেশের বাহিনী। সেই সংঘাতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়।

এনডিটিভি জানায়, আন্তর্জাতিক স্তরেই স্বীকৃত আছে পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ হচ্ছে ভারতীয় ভূখণ্ড। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে সেখানে চীনা সেনাদের উপস্থিতি। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের দাবি, এই অনুপ্রবেশ গালোয়ান নদী বরাবর সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১৩৭ মিটার। যে এলাকায় অনুপ্রবেশ চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে গত এক দশক ধরে পেট্রলিং করে ভারতীয় বাহিনী। উপগ্রহ চিত্রে ইগলুর মতো দেখতে কুঁড়ে ঘর ধরা পড়েছে। সেই সেক্টরে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৬টি           শিবির চিহ্নিত করেছে সেই চিত্র। ভারতের দাবি, সামরিক স্তরের আলোচনায় চীন বিতর্কিত এলাকা থেকে তাদের বাহিনী সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা খাতা-কলমে। শুধু তাই নয়, এলএসি বরাবর ব্যাপক সামরিক সম্ভারও বাড়াচ্ছে বেইজিং।

সেই চিত্র পর্যবেক্ষণ করে এমন দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরের সম্ভাবনা তৈরি করতে এই উদ্যোগ। এমনটাও দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। গত ২২ জুন লেফটান্যান্ট পদমর্যাদার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে দুটি দেশ সীমান্ত থেকে নিরাপদ দূরত্বে বাহিনী সরানোর পক্ষে সম্মতি দিয়েছিল।

‘শত্রুদের জবাব দিতে জানি’: প্রতি মাসের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের এই পর্বে লাদাখ নিয়ে রবিবার সরব হলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি  বলেন, ‘লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডে যাদের নজর পড়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে।  ভারত যেমন বন্ধুত্ব করতে জানে, তেমন শত্রুদের যোগ্য জবাব দিতে জানে। যখন প্রয়োজন হবে সেই যোগ্য জবাব দেয়া হবে। ’ তিনি বলেন, আমাদের সাহসী জওয়ানরা নিশ্চিত করেছে, মাতৃভূমিকে আক্রমণে কাউকে রেয়াত করবে না।  তিনি বলেন, দেশের সাহসী জওয়ানদের কাছে আমরা মাথা নত করি। এরাই দেশকে নিরাপদ রেখেছেন। ওদের আত্মত্যাগ সবসময় স্মরণ করবে দেশ।’