যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে যুবলীগ নেতার প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এক মাইক্রোচালক খুন হয়েছেন। রবিবার দুপুরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মাইক্রোচালক রিপন হোসেন (৩০) বাঘারপাড়ার মহিরন গ্রামের প্রশিকার মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পুলিশ বরকত উল্লাহ খান (২৮) নামে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে। আটক বরকত যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার মাহফুজুর রহমানের ছেলে ও যশোর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক। স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বাগিবতণ্ডার এক পর্যায়ে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দুপুরের দিকে যুবলীগ নেতা বরকতউল্লাহ ও তার স্ত্রী পিংকি খাতুন বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মোটরসাইকেলে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে তাদের উদ্দেশে কটূক্তি করে কয়েক জন যুবক। এ সময় তাত্ক্ষণিক মাইক্রোচালক রিপনের সঙ্গে বরকত উল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বরকত তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ঠেকাতে আহত হন স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী হিরু আহমেদ। স্থানীয়রা রিপন ও হিরুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হিরুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বরকতকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তাত্ক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বাঘারপাড়া বাজারে মিছিলও করে স্থানীয় জনতা।
বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন জানান, কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে ছুরিকাঘাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বরকত উল্লাহ খান নামে এক জনকে আটক করা হয়েছে। তার স্ত্রীও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
