চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকলেও গত ডিসেম্বরে (পঞ্জিকা বর্ষের শেষ মাস ও অর্থবছরের ৬ষ্ঠ মাস) এই প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমেছে ১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে তিন শতাংশের মতো। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানিতে ঘাটতি এক হাজার কোটি টাকার মতো। অন্যদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল সোয়া ১৭ শতাংশ। অথচ সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ১৮ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিসেম্বরে রপ্তানি কমার পেছনে অন্তত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন রপ্তানিকারকরা। এছাড়া অতীতের মাসগুলোতে রপ্তানি যে হারে বেড়েছে আগামীতে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক ও দেশের রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইএবি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হতেম ইত্তেফাককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আগের মাসগুলোতে বাংলাদেশ কিছুটা বাড়তি ক্রয়াদেশ পেয়েছিল। ফলে জুলাই থেকে নভেম্বরে রপ্তানি বেড়েছিল। ডিসেম্বরে এসে কমেছে। ডিসেম্বর থেকে গার্মেন্টসে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হলে রপ্তানিকারকরা বাড়তি দর চাইতে পারে - এমন আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতা আগেই কিছু অর্ডার বাড়িয়ে নিয়েছে। ফলে ডিসেম্বরে এসে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে গত মাসে নির্বাচন ও বিজয় দিবস উপলক্ষে শ্রমিকরা বাড়তি ছুটি নেওয়ায় অনেক কারখানা গড়ে ২০ দিন কাজ করতে পেরেছে। এসব কারণে আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে নতুন মজুরি বৃদ্ধির কারণে কিছু কারখানা টিকে থাকতে পারবে না। ফলে আগামী মাসগুলোতেও অতীতের ন্যায় রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি থাকবে না বলে শঙ্কা তার।
ইপিবি’র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মাসে ৩৫৫ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৩৪২ কোটি ৬১ লাখ ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৩৫ কোটি ৩১ লাখ ডলারের পণ্য। এছাড়া গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি ডলারের পণ্য। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। অর্থাত্ গত ছয় মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশের কিছু বেশি।
চলতি অর্থবছর সরকার পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ৩ হাজার ৯শ’ কোটি ডলার। রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশই আসে গার্মেন্টস পণ্য থেকে। ডিসেম্বরে এসে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও কমেছে। গত ছয় মাসে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অর্থাত্ ছয় মাসে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশের কিছু বেশি।
অবশ্য গত ছয় মাসে গড়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলেও চামড়া জাতীয় পণ্য, পাট ও পাটজাতীয় পণ্য, হিমায়িত খাদ্যসহ আরো দুই একটি পণ্যের রপ্তানিতে সুখবর নেই। আলোচ্য সময়ে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি এক শতাংশেরও কম। চামড়া জাতীয় পণ্য রপ্তানি না বেড়ে উল্টো কমেছে ১৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাতীয় পণ্য প্রায় ২৭ শতাংশ এবং সমুদ্রগামী জাহাজ রপ্তানি কমেছে প্রায় ১শ’ শতাংশ। তবে রপ্তানি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে, কৃষিজাত পণ্য ৬৭ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ২১ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল শূন্য দশমিক তিন শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য প্রায় ৮ শতাংশ।
