শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
৩৭ বছর বয়সি শেখ ফরিদ জন্মগতভাবেই অন্ধ। কিন্তু এই অন্ধত্ব তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে পাড়ি দিয়েছেন তিন যুগ। শেখ ফরিদের স্ত্রী সৌদিপ্রবাসী ও একমাত্র কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন গত বছর। তার ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকাশিত করে অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও শিখেছেন নানা কাজ। ইলেকট্রিক কাজ থেকে শুরু করে হস্তশিল্পের যে কোনো কাজ একবার হাতে নিয়ে দেখামাত্রই হুবহু তৈরি করতে পারেন প্রতিভাবান শেখ ফরিদ। তার হাতের কাজ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা স্কুলে জমা দিয়ে পেয়েছে অনেক পুরস্কার।
শিল্প এলাকায় বাড়ি হওয়ায় অনেক কারখানায় বানিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন পণ্য। ফরিদের আক্ষেপ—অনেকে কাজও বাগিয়ে নিয়ে যায় কিন্তু তার কোনো লাভ হয় না। শেখ ফরিদ মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর এলাকার চাঁন মিয়ার বড় ছেলে। ফরিদের বাড়ির ছোট্ট উঠানে বসে কথা হয় তার সঙ্গে। কথায় কথায় উঠে আসে জীবনের প্রতিবন্ধকতা এবং সুখ-দুঃখের কাহিনি। ফরিদ বলেন, ‘বছরপাঁচেক বয়স পর্যন্ত ঝাপসা দেখতাম। স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। বিভিন্ন জনের পরামর্শে সেই শিশুকালে চোখের অপারেশন করা হলেও আর চোখে দেখতে পেলাম না। ফরিদ বলেন, ‘প্রতিবেশী শিশুরা খেলাধুলা করত, আমি তাদের সঙ্গে মিশতে পারতাম না। তারা আমাকে খেলায় নিত না। শিশুকালে একাকী সময় কাটত। মনে ভর করত নিঃসঙ্গতা। সেই দুঃসময় তার কাটত মাটি দিয়ে পুতুল, ঘোড়া, হাতিসহ নানান জিনিস তৈরি করে। একসময় তিনি গান করতেন নিয়োমিত। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আর গান করা হয় না।
ফরিদের অন্ধত্ব নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তার মা বলেন, ‘ফরিদ যে অন্ধ তিন মাস বয়সে তা বুঝতে পারি। এরপর বিভিন্ন স্থানে চিকিত্সা করিয়েছি কিন্তু ভালো হয়নি। গরিব মানুষ আমরা। ভালোভাবে চিকিত্সা করাতে পারি নাই। আল্লাহ আমার ছেলেকে যে প্রতিভা দিয়েছে এটা দিয়েই সে সময় কাটায় । প্রতিবেশীরা তাদের ইলেকট্রিক কাজ করার জন্য ফরিদকে ডেকে নিয়ে যায়। এভাবেই টুকটাক পাওয়া পয়সায় ফরিদ চলে। সে কারো দয়া চায় না, চায় তার প্রতিভা বিকশিত হোক। তাহলেই ঘুচবে তার দুঃখ, হবে কর্মসংস্থান।’
