মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ২২:১৯

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, পাকা ও আধাপাকা রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কালভার্ট এবং হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গতকাল সোমবার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই মির্জাপুর উপজেলায় বংশাই ও লৌহজং নদীর তীব্র ভাঙনে সহায় সম্বল হারায় এলাকার শত শত পরিবার। ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ (৬২) ও বৈল্যানপুর গ্রামের সেলিম খান (৬০) অভিযোগ করেন বংশাই নদীর ভাঙনে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ফতেপুর হাটবাজার, থলপাড়া, সুতানরী, বৈল্যানপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, ত্রিমোহন, গাড়াইল, কোদালিয়া, হাটুভাঙ্গা ও আজগানা এলাকার রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারসহ ঘরবাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন এখন পর্যন্ত জরুরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। নদীভাঙনের ফলে ফতেপুর হাটবাজার, হিলড়া আদাবাড়ি, আদাবাড়ি বাজার, হিলড়া আদাবাড়ি মোকছেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট ও বহু ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। এরই মধ্যে হিলড়া আদাবাড়ি বাজার ও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হিলড়া আদাবাড়ি বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে মির্জাপুর-বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সঙ্গে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী।

এদিকে একই অবস্থা দেখা দিয়েছে লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, উফুলকী, বরাটি, বাগজান, পুষ্টকামুরি, দেওহাটা, বহুরিয়া, কোর্ট বহুরিয়া, গেড়ামারা, কামারপাড়া, ওয়ার্শি ও নাগরপাড়া এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ,  শুকনো মৌসুমে ভূমিদস্যুরা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বর্ষা মৌসুমে নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের করায় নদীভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এরই মধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি করছেন।