তাইওয়ানকে নিজের অঙ্গীভূত করিবার জন্য প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করিবে চীন। তাইওয়ানের স্বায়ত্তশাসন বাস্তবে মানিয়া লইবার চার দশক পূর্তি উপলক্ষে বুধবার প্রদত্ত ভাষণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মন্তব্য করেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করিতেছেন যে, নূতন বত্সরের প্রথম দিনে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের কড়া ভাষণের পাল্টা জবাবেই সামরিক শক্তি প্রয়োগের বার্তা প্রেরণ করিলেন জিনপিং। এমতাবস্থায়, নূতন বত্সরে চীন ও তাইওয়ানের সম্পর্কের অবনমন ঘটিবে বলিয়া ইতোমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করিতে শুরু করিয়াছেন বিশ্লেষকরা।
ইং-ওয়েন তাঁহার ভাষণে তাইওয়ানের ‘স্বতন্ত্র অস্তিত্বের’ প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য চীনের প্রতি আহবান জানান। মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্যগুলির ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বাস্তবোচিত বোঝাপড়া থাকা উচিত্ বলিয়াও মনে করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ইং-ওয়েন দাবি করেন যে, তাইওয়ানের ২৩ মিলিয়ন মানুষ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। এই মন্তব্যের মধ্যে চীনের একদলভিত্তিক শাসনব্যবস্থার প্রতি কিছুটা কটাক্ষ মিশিয়া আছে বলিয়াই মনে করা যাইতেছে। জিং পিং অবশ্য ইং-ওয়েনের মন্তব্যের কোনো জবাব দেন নাই। তিনি বরং পুনর্বার মনে করাইয়া দিয়াছেন যে, তাইওয়ান হইতেছে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্মর্তব্য, ১৯৪৯ সালে চীনে গৃহযুদ্ধের সময়ে চিয়াংকাইশেকের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদীরা সারা দেশে মাও জে দং-এর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্টদের নিকট পরাজিত হইলেও, তাইওয়ান ভূখণ্ডটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখিতে সক্ষম হন। সেই তখন হইতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতার দাবির বিপরীতে চীন ইহাকে নিজের ভূখণ্ড বলিয়া দাবি করিয়া আসিতেছে। তাইওয়ান আবার নিজের সুরক্ষার জন্য আমেরিকার অস্ত্রের বেশ বড়সড় এক ক্রেতাতেও পরিণত হইয়াছে।
১৯৭৯ সাল হইতে তাইওয়ানের সহিত অনানুষ্ঠানিক স্থিতি রক্ষা করিয়া চলিলেও, ইদানীং ‘এক চীন’ নীতির ব্যাপারে বেইজিং-এর মধ্যে কিছুটা হইলেও অসহিষ্ণু ভাব লক্ষ্য করা যাইতেছে। সম্ভবত, শি জিংপিং-এর ক্ষমতায় আগমনের পরে সাত বত্সর অতিক্রান্ত হইলেও, এখন অবধি তাইওয়ানকে চীনের অংশে পরিণত করিবার ক্ষেত্রে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি দেখা না যাওয়াতে ক্ষমতাসীন মহল কিছুটা হইলেও চাপ অনুভব করিতেছে। ‘এক চীন’ প্রসঙ্গে চাপ তৈরি করিবার লক্ষ্যে চীন সম্প্রতি তাইওয়ানের সহিত আলাপ-আলোচনার সংখ্যা কমাইয়াছে, তাইওয়ানের পক্ষে হাতেগোনা যেই সামান্য কয়েকটি দেশ আছে তাহাদের উপরে চাপ বাড়াইয়াছে, এমনকি বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে তাহাদের ওয়েবসাইটে তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসাবে তালিকাভুক্ত করিতে বাধ্য করিয়াছে। উল্লেখ্য, ইং-ওয়েন হইতেছে তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থি একজন রাজনীতিক। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হইবার ক্ষেত্রে এই অঙ্গীকার করিয়াই তিনি নির্বাচনে জিতিয়াছেন। কিন্তু ইদানীং তাহার সময় খারাপ যাইতেছে। অধিকাংশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চীন-বান্ধব দলের প্রার্থীরাই জয়ী হইয়াছে। তাইওয়ান অঙ্গীভূত হইবার পরে ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ নীতি মান্য করিবার অঙ্গীকার করিয়াছে চীন। কিন্তু ইং-ওয়েনের সরকার এই অঙ্গীকারে আস্থাশীল নহেন, এমতাবস্থায় ২০২০ সালের নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হইবেন তাহার উপরে চীন-তাইওয়ান সম্পর্ক অনেকখানিই নির্ভর করিবে।
