ভ্যাট আপিলে বর্ধিত অর্থ দিতে হবে না ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ২৩:২৬

শেয়ারবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগে তিন বছরের মধ্যে প্রত্যাহার না করা সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করে তা এক বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে কালোটাকার মালিকেরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী হবেন। অন্যদিকে ভ্যাটসংক্রান্ত বিরোধে আপিল করার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাজেটে যে বাড়তি ২০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম জমা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চার মাসের মধ্যে কাঁচামাল ব্যবহার না করলে অগ্রিম প্রদান করা ভ্যাট ফেরত না পাওয়ার বিধানও বাতিল করা হয়েছে। সরকারের জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ করমুক্তই থাকছে। প্রস্তাবিত বাজেটে লেভেল প্লেইং ফিল্ড আনার স্বার্থে অন্যান্য বন্ডের মতো এই              বন্ডে বিনিয়োগে করের সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এ ধরনের আরো কিছু সংশোধনী এনে গতকাল পাশ হয়েছে অর্থবিল। পাশ হওয়ার পর এটি অর্থ আইনে পরিণত হলো। আজ মঙ্গলবার পাশ হবে বাজেট।

১১ জুনের প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষত আপিলে বাড়তি ২০ শতাংশ অর্থ জমার শর্ত, কাঁচামাল চার মাসের ব্যবহারের শর্ত, কমিশনারের অনুমতি ছাড়াই নিচের সারির কমকর্তাদের অবাধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর ক্ষমতা, বন্দরে পণ্য আসার পাঁচ দিনের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা, ভ্যাট রেয়াত নেওয়ার সুযোগ থেকে বেশ কিছু পণ্যকে বাতিল করা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে আয়করের ক্ষেত্রে বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি বিক্রি করলে ন্যূনতম করের আওতায় আনা, কোম্পানির প্রমোশনাল ব্যায়ে রাশ টানায় বাড়তি করের মুখে পড়াসহ আরো কিছু প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান তারা। তারা জানান, এসব প্রস্তাব পাশ হলে তা ব্যবসায়ে জটিলতা ও হয়রানি বাড়াবে। অন্যদিকে কালোটাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হলে তিন বছরের মধ্যে প্রত্যাহার করতে না পারার শর্ত, প্রতিষ্ঠানে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ব্যয় অনুমোদন না নিলে এর ওপর কর আরোপের মতো বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সমালোচনা ছিল মোবাইল ফোনে কথা বলায় বাড়তি কর আরোপ নিয়েও।

তবে গতকাল অর্থবিল পাশকালে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের বেশির ভাগই রাখা হয়েছে। শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল, তিন বছরের মধ্যে ঐ টাকা সরাতে হলে স্বাভাবিক হারে কর দিতে হবে। কালোটাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেই যাতে সরিয়ে না নেয়, সেজন্য এই প্রস্তাব করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, যেহেতু এবার অন্যান্য খাতেও একই কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ফলে নতুন শর্তের কারণে মানুষ শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন না। সম্প্রতি বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানও এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে ঐ প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। গতকাল অর্থবিল পাশকালে তিন বছরের স্থলে তা কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।

বর্তমানে যে কোনো ভ্যাটসংক্রান্ত বিরোধের আপিল করতে হলে তিন স্তরে কর্তিত ভ্যাটের ১০ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। প্রস্তাবে আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরো ২০ শতাংশ আরোপ করা হয়। গতকাল এতে সংশোধন এনে কমিশনার পর্যায়ে আপিলে ২০ শতাংশ ও হাইকোর্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আগের মতো ৩০ শতাংশ ঠিক থাকলেও আপিলের শুরুর ধাপে ব্যবসায়ীর ব্যয় অপেক্ষাকৃত বেশি হবে। বর্তমানে ভ্যাট আইন অনুযায়ী কাঁচামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে পরিশোধ হওয়া ভ্যাট পরবর্তী সময়ে রেয়াত পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন করে চার মাসের মধ্যে ঐ কাঁচামাল বা মধ্যবর্তী কাঁচামাল ব্যবহার না হলে অগ্রিম পরিশোধ হওয়া ঐ ভ্যাট রেয়াত নেওয়া যাবে না বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের সমালোচনার মুখে গতকাল তা বাতিল করা হয়। তবে ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, বাজেট পাশ হওয়ার পরও আলোচনার ভিত্তিতে বেশ কিছু ইস্যুর সমাধান করা সম্ভব হবে।