কেমন কাটলো ২০১৮

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৪

অবসান হলো ঘটনাবহুল একটি বছরের। বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়াও এ সময়ে জাতি হিসেবে আমাদের অর্জন অনেক। আবার নতুন বছরকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা।  এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকদের অভিমত তুলে ধরা হলো আজ

হতাশার চাদরে মোড়ানো থেকেও আমরা আশার আলো দেখতে পছন্দ করি। নতুন বছরে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সা সহজলভ্য ও নিশ্চিত হোক। বিনোদন হোক সুস্থ-নির্ভেজাল। শুভ হোক পথচলা, আমাদের অঙ্গীকার হোক আরো সুদৃঢ়। আলোর পথে, প্রগতির পথে আমাদের এগিয়ে চলা হোক আরও বেগবান। দেশে-বিদেশে সকলের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে উঠুক। বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও জাতিগত সব সহিংসতা বন্ধ হোক। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্র চলুক নিরবচ্ছিন্নভাবে।

মোছা. বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর

বিশ্লেষকদের সাথে একমত হয়ে আমি বলতে চাই, জাতি হিসেবে আমাদের এখন অনেক অর্জন রয়েছে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছে। বিদায়ী বছরে অনেক কঠিন পরিস্থিতি সফলতার সাথে মোকাবিলাও করেছে। তবে জনগণের মনের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে তাদের আরো কৌশলী হতে হবে। নতুন বছরের প্রত্যাশা হলো, নতুন সরকার যেন জাতিকে ভালো ও চৌকস একটি মন্ত্রিসভা উপহার দিয়ে সকলকে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করে এবং নির্বাচনী ইশতিহারে উল্লেখিত বিষয়গুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন করে।

সাদিয়া সুলতানা মাহি

নবম শ্রেণি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, সাভার, ঢাকা

২০১৮ সালে জাতি হিসেবে আমাদের অর্জন যে অনেক তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৯ ভাগ। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, যে হারে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, সে হারে কর্মসংস্থান মোটেও বাড়েনি। ফলে বেকার সমস্যা এক মরণফাঁদ হিসেবে বিরাজমান। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পরিসংখ্যান ও তথ্য মতে, দেশ থেকে অবাধে টাকা পাচার ও বিভিন্নমুখী দুর্নীতি দেশের অর্থনীতির জন্য চরম ক্ষতির কারণ হয়েছে। কিন্তু তার কোনো উপযুক্ত প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ২০১৮ বছরে আমরা স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পথে পা বাড়িয়েছি সত্য কিন্তু সর্বস্তরের জনগণ সে সুফল ভোগ করতে পারেনি বলে বিতর্ক আছে। তবে আমাদের দেশ আঞ্চলিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ নানা সূচকে সারাবিশ্বে বিভিন্ন দিক দিয়েই এগিয়ে আছে এটা ধ্রুব সত্য। এখন প্রার্থনা করছি নতুন সরকার জনকল্যাণে আরো দৃঢ় ভূমিকা পালন করুক। সেই সঙ্গে নববর্ষ সকলের জন্য বয়ে আনুক শান্তি ও কল্যাণ। 

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর (আরমান ভুঁইয়ার বাড়ী), বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

২০১৮-এর একেবারে শেষ সময়ে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সময়ের পথপরিক্রমায় বর্ষপঞ্জির নবধারায় যোগ হয়েছে আরও একটি নতুন বছর। অতীতের সব ব্যথা-বেদনা, দুঃখ-যন্ত্রণা, হিংসা-বিদ্বেষ, দলাদলি-হানাহানি ও অস্থিরতা ভুলে সুন্দরের প্রত্যাশায় পথচলা শুরু হয়েছে আমাদের। নতুন বছর দেশবাসীর জন্য শুভ হোক, কল্যাণের বার্তা বয়ে আনুক। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠুক এ দেশ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্য-প্রযুক্তি, সাহিত্য, ক্রীড়া সব ক্ষেত্রে বিশ্বমান অর্জনের দিকে এগিয়ে যাক।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ হলেও এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছোট নয়। বিন্দুর মধ্যে যেমন সিন্ধু লুকিয়ে থাকে, ঠিক তেমনি আমরা সেই সিন্ধু রূপ প্রত্যাশা রাখি এই দেশের উন্নতি, অগ্রযাত্রা এবং কল্যাণের জন্য। আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে সবকিছুই রাষ্ট্রের উপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হবো তা নয়, বরং আমাদের নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে দেশের প্রতি।

সুদীপ্ত বালা

বি.এস.সি. (ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

আসন্ন সরকার বাহাদুরের প্রতি রইল আমার অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ২০১৮ সালটি গেল দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখে। চলতি সালটিও ভালো যাক, এই আমার প্রত্যাশা।

মো. সেলিম মিয়া

সুন্দরগঞ্জ পৌরশহর, গাইবান্ধা

নতুন বছরের শুরুতেই নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এটাই আমাদের বড় পাওয়া। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত কয়েক বছর দফায় দফায় বেড়েছে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরি। জনগণ একটু শান্তিতে বসবাস করতে চায়।

মো. সিকান্দার আলী সাগর

কনকর্ড টাওয়ার, শান্তিনগর, ঢাকা

বিদায় নিল ২০১৮ইং সাল। হারিয়ে গেল কালের গর্ভে ১টি বছর। শূন্য কখনোই থাকে না, তাই তার সাথে যোগ হয় নতুন সংখ্যা, নতুন বছর। হারিয়ে যাওয়া বছরটি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনেকে অনেক কিছু হারিয়েছে, দুঃখ, কষ্ট, বেদনা ও আশাহত হয়ে সময় পার করেছে। নতুন বছরের দিকে আমাদের প্রত্যাশা সবার সুস্থ থাকা, ভালো থাকা। সবার মাঝে তৈরি হোক সৌহার্দ্যপূর্ণ ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর প্রাণবন্ত আন্তরিকতা— এই প্রত্যাশা নতুন বছরের কাছে।

পারভীন সুলতানা বিউটি

রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ

অনেক ঘটনাবহুল ছিল ২০১৮ সাল। জাতীয় নির্বাচন হলো। হয়ে গেল অনেক বড় বড় অর্জন। যেমন-২১শে গ্রেনেড হামলার মামলায় রায়, শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,  বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধি, পদ্মা সেতুর কাজ আরম্ভ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, বৃহত্তর ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা, টাঙ্গাইলে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ আরও অনেক বড় বড় কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

নতুন বছর হোক সুখকর ও আনন্দময়, জাতীয় জীবনেও দেশটি হয়ে উঠুক উন্নত ও সমৃদ্ধশালী এই প্রত্যাশা আজকের দিনে।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

গত বছর ছিল নির্বাচনের উত্তেজনাপূর্ণ বর্ষ। নির্বাচন সমাপ্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিজয়ী হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। নতুন বছরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আওয়ামী লীগ আন্তরিক হবে, এটাই আমরা বিশ্বাস করি।

মাখরাজ

সাঁটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

অবসান হলো অনেক ঘটনাবহুল বছর ২০১৮ইং সাল। পুরনো সব ব্যর্থতা, হতাশা ও না পাওয়ার গ্লানি ঝেড়ে-মুছে ফেলে নতুন প্রত্যাশার আলো জ্বেলে সবাই এখন নতুন বছরের আগমণকে স্বাগত জানাচ্ছে।

হোসেন আরা করিম নীলা

হাজারীবাগ, ঢাকা

নতুন বছরে আমাদের মূল প্রত্যাশা হচ্ছে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা, সাধারণ মানুষের নানা দুর্যোগ থেকে মুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যানজটমুক্ত ঢাকা শহর।

ফারুক আলম

মালিবাগ, ঢাকা

২০১৯ইং সালকে দেখতে চাই একটি স্বার্থক ও সুন্দর বছর হিসেবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

গেল বছর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একটি সুষ্ঠু  নির্বাচন। আমার প্রত্যাশা, নতুন সরকার  তরুণ প্রজন্মের উন্নতির জন্য দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা

আমি একজন সাধারণ মুজিব সৈনিক।  মুজিব সৈনিক হিসেবে আমারও ভালো লাগছে, কারণ আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করছে। আশা করি, আমাদের নতুন বছরটিও হবে উন্নয়নের বছর।

সুমন দাশ

টরন্টো, কানাডা

বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে কেটেছে বিগত বছরটি। আশা করি, নতুন বছর ২০১৯ সাল আমাদের জন্য শান্তি ও স্বস্তি উভয়ই বয়ে নিয়ে আসবে।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট

বিশ্লেষকদের মতামতের সাথে আমি আংশিকভাবে একমত প্রকাশ করছি, কারণ শান্তিপূর্ণ যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তা নিয়ে আমি এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। তবে নতুন বছরে সরকার যেন পদ্মাসেতুর কাজের সমাপ্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ, রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু, সরকারি প্রতিটি খাতকে দুর্নীতিমুক্তকরণ এবং তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণের মূল লক্ষ্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করে, এটাই হলো আমার প্রত্যাশা। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করাও যেন এ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হয়, সেটাও বড় চাওয়া।

সাবরিনা সুলতানা মিশু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,

সাভার, ঢাকা

নতুন বছর এলেই আমরা নতুন আশায় যেমন উদ্দীপিত হই, তেমনি পেছন ফিরেও দেখি বিগত বছরটি কেমন ছিল। ২০১৮ সালের ১২ মে থেকে মহাকাশে শুরু হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল পথচলা। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। গত বছর রাজনীতির মাঠও বেশ সরগরম ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আমরা প্রত্যাশা করি একটি স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নতুন বছরে আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অমিত বণিক

 উত্তরা, ঢাকা

নতুন বছরের মূল প্রত্যাশা নতুন সরকার দেশকে আরো উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবেন।

জাহাঙ্গীর খান বাবু

মুন্সীগঞ্জ

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবার ২০১৮ইং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাগ্রহণ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ তাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখেন। বিশেষ করে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপদান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার প্রদান এবং সুষম ও সমতাপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার জন্য তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত।

এসকে মোঃ রমিজউদ্দিন

কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

বিদায় নিয়েছে ২০১৮ইং সাল। ভালোমন্দ ও বহু ঘটনাবহুল বছর ছিল সেটি। তবে বছরের শেষে অর্থাত্ ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীব স্মরণীয় দিন। মহান এই বিজয়ের মাসে জাতির স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও তৃতীয়বারের মতো বিজয় লাভ করেছেন এই সংসদ নির্বাচনে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ২০৪১ইং সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবেন।

পারভীন আক্তার

মগবাজার, ইস্কাটন, ঢাকা

জাতি হিসেবে অবশ্যই আমাদের অনেক অর্জন হয়েছে। যেমন-সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, খেলাধুলায় আমাদের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে ইত্যাদি।

আবদুস সাত্তার

গ্রাম+পোস্ট-বেলগাছি,

জিলা-রাজবাড়ী