তেলের ড্রামে কোকেন মামলার চার্জশিটে ১০ আসামি

আপডেট : ৩০ জুন ২০২০, ০০:৫৭

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বহুল আলোচিত তেলের ড্রামে কোকেন চোরাচালান মামলায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহাম্মদ খানসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা র্যাব। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৭ এর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন খানজাহান আলী লিমিটেডের পরিচালক মোস্তাক আহাম্মদ খান, লন্ডনপ্রবাসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ফজলুর রহমান ও মৌলভীবাজারের বকুল মিয়া। জামিনে গিয়ে পালিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ। র্যাবের ধারণা জামিন পেয়ে তিনি দেশ ছেড়েই পালিয়েছেন। জামিনে রয়েছেন কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক এ কে এম আজাদ।

কারাগারে রয়েছেন অপর পাঁচ আসামি। এরা হলেন—সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, খানজাহান আলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা ও মন্ডল গ্রুপ নামে একটি বায়িং হাউজের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান।

র্যাব জানায়, ২০১৫ সালের ৭ জুন বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে এনসিটি ইয়ার্ডে অবৈধ উপায়ে এলসি ব্যতীত আমদানি করা সূর্যমুখী তেলের আড়ালে কোকেন ভর্তি একটি কন্টেইনার জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে সিলগালা ভেঙে কন্টেইনারের ভেতরে সর্বমোট ১০৭টি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম উদ্ধার করা হয়। ল্যাবে ১০৭টি ড্রামে থাকা সূর্যমুখী তেলের নমুনা পরীক্ষা করে দুইটি ড্রামে মোট ৩৭০ লিটার তরল কোকেন মাদক শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এই ঘটনায় ২৭ জুন বন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। মামলার তদন্তভার বন্দর থানা পুলিশ থেকে সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. কামরুজ্জামানের ওপর অর্পিত হয়। তিনি তদন্ত শেষে মাদক আইনে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০১৭ সালের ১২ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনায় অভিযোগপত্র আমলে না নিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য র্যাব-৭ কে নির্দেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে নিয়োজিত হন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী। তিনি ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অংশটুকুর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন; যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া অংশটুকু তদন্ত শেষে গতকাল অভিযোগপত্র দায়ের করেন তিনি। এবিষয়ে মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মামলাটির তদন্তকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, মামলার ঘটনায় জব্দকৃত কোকেনের বাজার মূল্য ৯ হাজার কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি এগুলো ধ্বংস করা হয়।