(শেষ অংশ)
কামরুজ্জামান বাবু
কঠিন শনির কবলে আক্রান্ত মাসুদ রানা, তথা শাকিব খান কী পারবেন উপন্যাসের নায়কের মতো জাদুকরী কিছু দেখিয়ে এই শনির দশা কাটিয়ে উঠতে? নাকি কল্পিত চরিত্রের কাছে রানা পরাজয় বরণ করে ঢাকার সিনেমা থেকে পটল তুলবেন? শুরুটা হয়েছিল বছরের শুরুতে বুবলী প্রসঙ্গে। হঠাত্ করেই চাউর হয়ে গেল যে, শাকিব খানের সন্তানের মা হলে চলেছেন বুবলী। সেই সময় শাকিব ও বুবলী অভিনীত বীর সিনেমাটিও মুক্তি পেল। কিন্তু বুবলীর দেখা আর নেই। সিনেমায় বুবলীর শুধু ক্লোজ মুখের ছবি। তারপরই জানা গেল, বুবলী নেই। হাওয়া। বেশ কয়েকদিন পর বুবলী ফোনে সাক্ষাত্কার দিলেন কয়েকটি গণমাধ্যমে যে, তিনি দেশে আছেন, তবে এখন তিনি ঘরের বাইরে আসবেন না, জনসম্মুখে আসবেন না। তখনও কিন্তু করোনার কিছুই শুরু হয়নি। তাহলে সমস্যা কী? তিনি বললেন, এখন একটু একাকী সময় কাটাবেন। কোনো কোনো সাংবাদিক তাকে এ-ও বললেন, ‘আচ্ছা, আপনি একটু ভিডিও কলে আসেন, আমরা আপনাকে দেখি।’ বুবলী তাতেও রাজি হননি। আর মাসুদ রানা বলে দিলেন, বুবলী তার সন্তানের মা হতে চলেছেন, এটি নাকি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। বাহ! নায়ক বটে। কিন্তু বুবলী তাহলে জনসম্মুখে আসছেন না কেন? এবারে আর মাসুদ রানার মুখে কোনো জবাব নেই। রানা সাবধান হয়ে গেলেন, তিনি কোনো কথা আর বাড়ালেন না। ঢাকার সিনেমার সবাই জানেন, বুবলী সন্তানের মা হয়েছেন। এমনকি বুবলী কোথায় আছেন, কেমন আছেন, একজন জলজ্যান্ত নায়িকা হাওয়া হয়ে গেলেন, এটা কী হতে পারে? মনে পড়ে যায় অপু বিশ্বাসের কথা। অপু সন্তান সম্ভবা হয়ে এক সময় লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। তারপরের ইতিহাস তো সবারই জানা। সিনেমার নায়ক মানে বাস্তবের রানা এমন আচরণ করলেও উপন্যাসের রানা কিন্তু কখনোই বলতেন না, আমি সন্তানকে স্বীকার করি কিন্তু সন্তানের মাকে মেনে নেবো না। আহা কী চমত্কার রূপকথার মতো শোনায় রানা কথা। বুবলী প্রসঙ্গের রেশ কাটতে না কাটতেই শোনা গেল বাস্তবের রানা নিকেতনে এক আলিশান বাড়ি বানাচ্ছিলেন। সেখানে ইমরাতবিধি না মেনে কাজ করায় তাকে ১০ লাখ টাকা তাত্ক্ষণিক জরিমানা গুনতে হয়েছে। এবারে কিন্তু আমাদের মাসুদ রানা আরো রেগে গেলেন। বললেন, ম্যাজিস্ট্রেট কী জানেন না এটা কার বাড়ি? এভাবে কেউ জরিমানা করে? মন খারাপ হলেও রানা টাকা দিয়েছেন। উপন্যাসের নায়ক হলে কী রেগে যেতেন, নাকি ইমারতবিধি মেনে বাড়ি বানাতেন। পাঠক, এর উত্তর আপনারাই ভালো দিতে পারবেন। নায়ক সাহেবের মন বেশ খারাপ। করোনার প্রকোপে তার সিনেমা হলের ভেতরে বসানো প্রজেক্টেরের ভাড়া পাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উচ্চমূল্যের পারিশ্রমিকের কারণে হাতে কোনো সিনেমা নেই। এক সময় তিনি ঘোষণা করলেন, ‘অর্ধেক পারিশ্রমিকে তিনি সিনেমা করবেন। কারণ এই শিল্পকে বাঁচাতে হবে। ভালো কথা। একদম সাচ্চা চলচ্চিত্র প্রেমিক তিনি। ভাবলেন, হুড়মুড় করে প্রযোজকরা ছুটবেন নায়ক সাহেবের কাছে। কিন্তু আমাদের ইস্পাত হূদয়ের অভিমানী প্রযোজকরা কেমন যেন, তারা কেউই সাড়া দিলেন না। শুরু হলো তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কারণ শাকিব এমন এক সময় এই ঘোষণা দিলেন যখন আর শাকিবের ক্যারিয়ারে হিট সিনেমার দেখা মিলছে না। কেউ কেউ বললেন, শাকিব অসময়ে ঘোষণাটা দিলেন। এটি যদি জানুয়ারিতে দিতেন তাহলে কেউ কেউ আগ্রহী হতেন। বিধি বাম! এখন সিনেমা হলগুলো খুলবে কি-না কে জানে। ফলে ঘোষণা শুধুই ঘোষণার মধ্যেই থেকে গেল। এরপর নায়কের হয়ে বদিউল আলম খোকন ঘোষণা করলেন, শাকিব একসঙ্গে ৫টি সিনেমা বানাবেন। তিনি টাকা লগ্নি করবেন এবং পরিচালকদের নামও বলা হলো। এদের মধ্যে সোহানুর রহমান সোহানের নাম এলো। মাসুদ রানাকে যিনি শাকিব খান নামে নিয়ে এসেছিলেন সিনেমায়। সোহান তো বিস্মিত। বললেন, কই, আমি জানি না তো। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এটি ছিল আলোচনায় থাকার একটা অপকৌশল মাত্র। এত এত ঘটনা, তারপরও আমাদের সিনেমার নায়ক রানা কিন্তু সাবধান হলেন না। হঠাত্ জানা গেল দিলরুবা খান শাকিব খানের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। কেন? পাগল মন গানটি বিনা অনুমতিতে শাকিব তার প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমা পার্সওয়ার্ডে রিমেক করে ব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে নাকি অনেক আগে থেকে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল আমাদের নায়কের কাছে। কিন্তু তিনি তো কিং খান। তাই পাত্তা দেননি। বারবার তাকে সতর্ক করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষিরা। রানা সাবধান, রানা সাবধান। উপন্যাসের নায়ক রানা সাবধান হলেও আমাদের পর্দায় নায়ক রানা ওরফে শাকিব খান সাবধান হননি। ফলে এখন আইনি পথেই তাকে হাঁটতে হবে, অথবা দিলরুবা খানে সঙ্গে আপোস করতে হবে। তাই এখন সবাই বলাবলি করছেন রানার ভ্যাগাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। কে তাকে আশা দেবে? কে তাকে ভরসা দেবে?
