স্পোর্টস রিপোর্টার
এমনিতে খুবই সাহসী মানুষ নাজমুল ইসলাম অপু।
সবচেয়ে বড় ব্যাটসম্যানকেও বল করতে ভয় পান না। করোনার মধ্যেও মানুষের পাশে থাকতে ভয় পাননি। এমনকি নিজের করোনা সংক্রমণ হয়েছে জেনেও ভয় পাননি। তবে ফিরতি রিপোর্ট আসার আগে একটু নার্ভাস লাগছিল। সেই নার্ভাসনেস কেটে গেছে। সুসংবাদ পেয়েছেন অপু। করোনার সঙ্গে ১৪ দিন যুদ্ধ শেষ করে সেরে উঠেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই বাঁহাতি স্পিনার।
গতকালই সকালে রিপোর্ট পেয়েছেন। এক দিন আগে টেস্ট করাতে দিয়েছিলেন। গতকাল নেগেটিভ ফল পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী আরেকবার পরীক্ষা করাতে দিয়েছেন। এই দফা নেগেটিভ এলে পুরো চিন্তামুক্ত অপু।
ঢাকার পরই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে বড় জায়গা হয়ে উঠেছিল অপুর শহর নারায়ণগঞ্জ। যখন সব খেলা বন্ধ হয়ে গেল, শুরুতে কিছুদিন মানুষকে সচেতন করার কাজ করেছিলেন। এরপর বুঝলেন এই সংকটে আশেপাশে অনেক মানুষের আর্থিক কষ্ট শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর।
সেই কাজটায় কিছু টাকা সংগ্রহ করে নিজের দায় শেষ করতে পারতেন। কিন্তু অপুর চিন্তাটা একটু অন্যরকম। তিনি লোকের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করেছেন, একটা দল তৈরি করেছেন এবং নিজেই সেই কাজে নেমে পড়েছেন। কাজটা সম্পর্কে অপু বলছিলেন, ‘একা একা তো করা যায় না। তাই আমি একটা টিমের মতো করে নিয়েছিলাম। যারা এ কাজ করছে, তাদের স্বাস্থ্যর ব্যাপারটাও মাথায় রাখা হয়েছিল। আমরা ইউএনও স্যারের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে ১৫টা কার্ড করে নিয়েছি, যাতে যে কেউ এ কাজের জন্য ঘোরাঘুরি না করে।’
অপু নিজে এই খাতে যতদূর পারেন বিনিয়োগ করছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের তারকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচিতজনের কাছ থেকে সহায়তা নিচ্ছেন। সহায়তা করছেন এমনই একজন হলেন তামিম ইকবাল। দুই দফা অর্থ দেওয়া তামিমই কাল অপুর ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন এই উদ্যোগের কথা। অপুর এই উদ্যোগটা ঈদের পর থেকে সেভাবে আর চালু নেই। লকডাউনের জন্য সেভাবে কাজ করতে পারছেন না। তার পরও মানুষের মাঝে ছিলেন। লোকজন তার বাড়িতে আসছিল সহায়তার জন্য। এর মধ্যেই নিজে আক্রান্ত হয়ে গেলেন। অবশেষে সেই সংক্রমণ সামলে সেরে উঠেছেন। এবার আবার মানুষের পাশে ফেরার পালা।
