শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বিভিন্ন কোম্পানির নাম বিকৃত করে নকল ওষুধ ও স্যানিটাইজারে সয়লাব এখন বরিশালের বাজার। এছাড়াও খ্যাতনামা বিভিন্ন কোম্পানির নকল ওষুধ তৈরির কারখানার খোঁজ পেয়েছে প্রশাসন। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বরিশালে জেলা প্রশাসন নকল কারখানা, বিভিন্ন ফার্মেসি-ফুটপাত থেকে কোটি কোটি টাকার নকল ওষুধ ও স্যানিটাইজার জব্দ করেছে। নকল কারখানা, ফুটপাত ও ফার্মেসিতে তিনটি অভিযান পরিচালনাকারী বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান ইত্তেফাককে জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ও স্যানিটাইজার জব্দ করা হয়েছে। নকল ওষুধ প্রস্তুতকারী ও নকল স্যানিটাইজার বাজারজাত করার দায়ে চার জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক এস. এম অজিয়র রহমানের নির্দেশে একাধিকবার বরিশালের ফার্মেসিগুলোতে গিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে কোনো প্রকার নকল ওষুধ বিক্রি এবং স্যানিটাইজার বিক্রি করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না মর্মে হ্যান্ড মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা খ্যাতনামা কোম্পানির নাম বিকৃত করে ওষুধ ও স্যানিটাইজার বিক্রি শুরু করলে ওষুধ প্রশাসন, র্যাব, পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৫ জুন বরিশাল নগরীর সাগরদী দরগাহ বাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ ও কাঁচামাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখান থেকে অন্তত ৮টি খ্যাতনামা ওষুধ কোম্পানির মোড়কে উত্পাদিত প্রায় ১০ কোটি টাকার নকল ওষুধ, কাঁচামাল এবং সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সিলগালা করে দেওয়া হয় কারখানাটি। সে সময়ে ওষুধ উত্পাদনের সময় হাতেনাতে আটক কারখানার প্রধান পরিচালক মাসুম বিল্লাহ এবং তার সহযোগী নূরে আলম গাজীকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ টাকা করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে দণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান। ২২ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির নাম বিকৃত করে নকল স্যানিটাইজার বিক্রি চক্রের মূল হোতাসহ দুই জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় তাদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকার নকল স্যানিটাইজার উদ্ধার করা হয় এবং নকলসামগ্রী বিক্রির দায়ে আরো সাত জনকে জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার নগরীর পাইকারি ওষুধের বাজার খ্যাত কাটপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি ফার্মেসি থেকে ২ লাখ টাকা মূল্যমানের নকল ওষুধ এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার জব্দ করা হয়। কয়েকটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এস. এম অজিয়র রহমান ইত্তেফাককে জানান, নকল ওষুধ এবং স্যানিটাইজার প্রস্তুত ও সরবরাহকারীদের হাতেনাতে আটক করতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বরিশাল নগরী থেকে কোটি কোটি টাকার নকল ওষুধ ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। করোনাকালে কেউ যাতে নকল ওষুধ বা স্যানিটাইজার বিক্রি করতে না পারে সেজন্য জেলা প্রশাসন তত্পর রয়েছে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যে কেউ সঠিক তথ্য দিলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে অভিযান পরিচালিত হবে।
