মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এবার পদ্মা নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকায় পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে হুমকিতে পড়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িসহ ছয়টি গ্রাম। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্ষার শুরুতেই প্রমত্তা পদ্মার পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হঠাত্ ভাঙছে নদীর পাড়। এর আগে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এখনো দেড় কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি গ্রাম থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীতীর অব্যাহতভাবে ভাঙছে। নদীতীরবর্তী কোমরকান্দি গ্রামের জালাল সর্দারের বাড়ি থেকে জলিল প্রামাণিকের বাড়ি পর্যন্ত বাঁধ ধসে পড়ছে।
এদিকে নদীভাঙনে বসতবাড়িসহ ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা নিয়ে কুমারখালীর কোমরকান্দিসহ পাশাপাশি পাঁচ/ছয়টি গ্রামের মানুষের দিন কাটছে। এছাড়া এখনো দেড় কিলোমিটার জুড়ে নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় রবীন্দ্র কুঠিবাড়িও রয়েছে ভাঙন ঝুঁকিতে। শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন তারেক জানান, নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে শিলাইদহের পাঁচ/ছয়টি গ্রামের বসতবাড়িসহ ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীও ঝুঁকিতে পড়বে বলে তিনি জানান। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান জানান, ভাঙনপ্রবণ নদীতীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনরোধে উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুন্ডু শিলাইদহের কোমরকান্দি এলাকার নদীতীর ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বর্ষায় প্রতি বছরই নদীতীর ভাঙছে। এবার আগাম ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
