খাতুনগঞ্জে মসলার দাম বাড়ছে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ২১:২৪

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

কোরবানির বেশ আগেই পাইকারি মসলার বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত কিছুদিন ধরে দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে মসলা জাতীয় সকল পণ্যের দাম। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কয়েক জন দোকানিকে জরিমানা করেছে। জানা যায়,  দোকানিরা নিজেদের কাছে থাকা রশিদে বিক্রয় মূল্যের চেয়ে কম লিখে রাখছে। এ ধরনের কয়েকটি চালানের হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাইকারি দরের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ।

কোরবানিতে দেশে মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। সে কারণে প্রতি বছরই দেখা যায় কোরবানির এক মাস আগে থেকে মসলার বাজারে হঠাত্ দফায় দফায় দাম বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অভিযোগ আছে, খাতুনগঞ্জে আমদানিকারকদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তারা স্লিপের মাধ্যমে ব্রোকারদের কাছে মসলা বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে এই স্লিপ একাধিকবার হাত বদল হয়ে মসলার দাম বেড়ে যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানিদের রশিদ পরীক্ষা করে বিক্রয় ও ক্রয় মূল্যের ব্যাপক পার্থক্য দেখতে পায়। প্রতি কেজি এলাচের ক্রয়মূল্য ২ হাজার ৪১০ টাকা হলেও মূল্য পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া ২৪০ টাকার দারুচিনি ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকায়, ২৭০ টাকার জিরা ৪০০ টাকায়, ৪২০ টাকার গোলমরিচ ৬২০ টাকায়, ৬৪০ টাকার লবঙ্গ ৭৪০/৮০০ টাকায় ও ২৬৫ টাকার জিরা ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আবার খুচরা বাজারে এসব মসলা বাজারভেদে দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এলাচ কেজি ৩ হাজার ৬০০ টাকা, দারুচিনি কেজি ৫০০/৬০০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ১ হাজার টাকা, জিরা কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের মসলার আমদানিকারক ব্যবসায়ী অমর কান্তি দাশ ইত্তেফাককে বলেন, করোনার কারণে কম দামে মসলা জাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্যের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা কি দামে পণ্য বিক্রি করবে আমরা সমিতির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। অপর আমদানিকারক ব্যবসায়ী মো. ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, পাইকারি বাজারে মসলার দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। খুচরা বাজারে কত দামে বিক্রি করছে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ খাতুনগঞ্জে পাঁচ/ছয় জন আমদানিকারক ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের  ইচ্ছার ওপর মসলার দাম নির্ভর করে। কোনো উত্সব আসলেই তারা পণ্য নিয়ে কারসাজি শুরু করে। বেড়ে যায় পণ্যের দাম। খাতুনগঞ্জে কয়েক শত স্লিপ বিক্রেতা রয়েছে। স্লিপের মাধ্যমে পণ্য কিনে কয়েক দফায় হাত বদল হয়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছে। এদের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কোরবানির আগে বাজার একই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। খাতুনগঞ্জের  আড়ত ও গুদামে পণ্যে ভর্তি। তবে হামিদউল্লাহ খান বাজার আড়তদার সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী ইত্তেফাককে বলেন, পেঁয়াজ ২০/২১ টাকায়, রসুন ৬৫/৭০ টাকায় এবং আদা ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিত পণ্য বাড়তি দামে কেনা। আমরা এখন লোকসানে পণ্য বিক্রি করছি।