দাকোপে আমন বীজের সংকট!

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ২১:২৫

উদ্বিগ্ন কৃষক

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা

চলতি মৌসুমে খুলনার দাকোপে আমনের উচ্চফলনশীল বীজের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এলাকার হাজারো কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিএডিসির ডিলারদের কাছে গিয়েও বীজ পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা।  খাটাইল এলাকার কৃষক মোজাফ্ফার হোসেন, বাজুয়ার শামীম হাসান, চুনকুড়ির জীবনানন্দ মণ্ডল, বটবুনিয়ার প্রণব কবিরাজ, তিলডাঙ্গার দুলাল মণ্ডলসহ আরো অনেকে জানান, প্রথমে দুই-একজন ডিলার বিএডিসির ১০ কেজি ওজনের বীজের বস্তা সরকার নির্ধারিত ৩০০ টাকা মূল্যের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করলেও এখন সে বীজের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানির চড়া মূল্যের বীজ অর্থাত্ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় ক্রয় করছেন বলে জানান।

উপজেলা সিনিয়র কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান খান বলেন, গতবারের তুলনায় এবার বিএডিসির বীজের বরাদ্দ বেশি। অর্থাত্ এবার ৭৭.১৩৬ মেট্রিক টন বীজ বরাদ্দ। এর মধ্যে পাওয়া গেছে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৮২ মেট্রিক টন বীজ। কিন্তু বিএডিসির অন্যান্য জাতের ৭.১১ মেট্রিক টন বীজ মজুত থাকলেও শুধু ২৩ আর ১০ বীজ ধানের সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলেন, ফলনে প্রায় অন্যান্য জাতের ধান সমান হলেও এ অঞ্চলের কৃষক বেশি ২৩ আর ১০ ধান চাষে অভ্যস্ত। সংকট সমাধানে তিনি বিএডিসির কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে তিনি মনে করেন। বীজ ধানের সংকট দুই-একদিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে উপজেলা সারবীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ জানান।   বিএডিসির খুলনা জোনের উপপরিচালক মো. লিয়াকত আলী বীজ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আসলে কিছু আপত্কালীন বীজ মন্ত্রণালয়ের হাতে আছে। মন্ত্রণালয়ে বীজ চাওয়া হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে সংকট কেটে যাবে। তাছাড়া যে অঞ্চল থেকে তারা ২৩ ও ১০ ধানের বেশি বীজ সংগ্রহ করেন গতবার সেখানে নানা সমস্যার কারণে খুব কম বীজ সংগ্রহ হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।