৫০ বাড়ি, এক কিলোমিটার রাস্তা বিলীন
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
কালীগঙ্গা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশত বসতবাড়ি, প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগা মাঠ। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো ২ শতাধিক বসতবাড়ি, একটি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ব্রিজ, বাজার, রাস্তাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। নদীতীরে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে ভিটেমাটি হারা মানুষের সারি। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে কালীগঙ্গার তীর। এখনো পর্যন্ত তাদের সহযোগিতার জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করলেন অনেকেই।
উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের পূর্ব কুমুল্লী, কেল্লা, নকিববাড়ী, জাবরা, তরা, উত্তর তরা এলাকার মানুষজনের দিন কাটে ভাঙনের শব্দ শুনে। ভাঙন ঠেকাতে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ১০ থেকে ১২টি গ্রামের ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
পূর্ব কুমুল্লীর প্রফেসর শরীফ উদ্দিন বললেন, ‘গত দুই বছরে আমার বাবা, চাচার ১২ বিঘা বসতবাড়ি মসজিদ, ঈদগা মাঠ সবটুকুই গেছে নদীর পেটে। ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও অন্তত ভিটেমাটিটুকু অবশিষ্ট থাকে কিন্তু নদীর ভাঙনে সবকিছু শেষ হয়ে যায়।’ নকীব বাড়ি গ্রামের মো. রেজাউল করিম জানান, ‘সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি বাড়ির উঠানের অর্ধেক ভেঙে নদীতে গেছে। বিকাল গড়াতেই ঘরে ফাটল দেখা দেয়। রাতের অন্ধকারেই ঘর সরিয়ে নিতে হয় অন্যত্র। পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে।’
বানিয়াজুরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চতু জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা গত বছর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরও নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঘিওরে এরই মধ্যে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, কালীগঙ্গা নদীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার কাজ শুরু হবে।
