দুমকিতে বেপরোয়া দখল আর দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী পীরতলা খাল। অবৈধ দখলদার কতিপয় প্রভাবশালী ভিটি মালিকদের ক্রমাগত দখলে সরকারি রেকর্ডিও খালের তীর ভরাট হতে হতে এখন সরু ক্যানেলে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ওই খালে শহরের বর্জ্য আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষণের চরম সংকটে পড়েছে। খালের স্বাভাবিক পানির প্রবাহ না থাকায় একদিকে কৃষি ক্ষেতের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত, অন্যদিকে বেহাত হওয়া সরকারি রেকর্ডিও খালের বেশিরভাগ খাস জমিতে গড়ে উঠছে পাকা ভবন, অসংখ্য দোকানপাট। অবৈধ দখলদাররা যে যেভাবে পারছে, নিজ ভিটির অগ্রভাগের খাল ভরাট করে রেকর্ডিও জমির সঙ্গে গড়ে তুলছে স্থাপনার দোকানপাট। এভাবে দখল আর দূষণ অব্যাহত থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই খালটি পুরোপুরি ভরাট ও বেদখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী পীরতলা খালের থানা ব্রিজ এলাকা থেকে উত্তরে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে খালের উভয় তীরে চলছে বেপরোয়া দখলদারিত্ব। বাজারের পুরাতন ব্রিজ এলাকা থেকে সৃজনী বিদ্যানিকেতন হয়ে উত্তরে অন্তত আরো তিন মিটার জুড়ে খালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভিটি মালিকদের দখলে চলে গেছে। বাজারের পুরাতন ব্রিজ থেকে দক্ষিণের ব্রিজ পর্যন্ত খালের উভয় তীর ভরাট করে নিত্যনতুন অস্থায়ী টিনশেড ঘর তুলে ভাড়ায় দোকান বসানো হচ্ছে। অবশিষ্ট খালে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলে খালটি রীতিমত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এভাবে অবাধে দখলদারিত্ব চললেও যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকারি সম্পত্তির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা কোনোরকম তদারকি না থাকায় একজনের দেখাদেখি অন্যরাও এমন অবৈধ দখলে মেতে ওঠেছে। এ বিষয়ে বাজার ব্যবসায়ীরা যেন কারো কোনো তোয়াক্কাই করছে না।
শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম সালাম জানান, অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনায় এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। খালের পানির প্রবাহ না থাকায় কৃষিকাজে সেচের পানির অভাব অপরদিকে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাই জনস্বার্থে খালটি খুলে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। বিষয়টি শীঘ্রই উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সভায় উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কমল সাহা বলেন, রেকর্ডিও সম্পত্তির অগ্রভাগের খাল ভরাটের খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা চলে আসার পরে ফের তারা কাজ করেছে। এ বিষয় দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ইউএনও) স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি খালের পরিমাপ করত নকশা প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে যাদের অবৈধ দখল আছে তাদের নোটিস করা হচ্ছে।
দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি), দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান আহম্মেদ বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের প্রাথমিকভাবে নোটিস করা হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল মুক্ত রাখা হবে।
