লকডাউন ওঠায় মুক্তির স্বাদ রাজাবাজারে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ২২:৪০

 ‘মনে হচ্ছে, বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছি। এতদিন কারাগারে বন্দি ছিলাম। অন্য সমস্যার চেয়ে মানসিক যন্ত্রণা ছিল বেশি। এখন মনে হচ্ছে স্বাধীন। ইচ্ছে হলেই যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারব।’ ২১ দিনের লকডাউন শেষে গতকাল বুধবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তবে নতুন করে সংক্রমণের ভয়ও বাসা বেঁধেছে মনে। এতদিন যারা বাইরে ছিলেন তারাও এলাকায় ফিরবেন। অন্য এলাকার মানুষের অবাধ চেলাফেরাও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের মধ্যে স্বস্তিটা বেশি। অনেকেই কষ্টে ছিলেন। পকেটে টাকা ছিল না, ছিল না খাবারের ব্যবস্থা। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সেখানে স্বাভাবিক চলাফেরা করেছেন মানুষ। ভ্যানে করে সবজি বিক্রেতা         রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন পার করেছি। ঘরে খাবার ছিল না। এক দিনের খাবার তিন দিনে খেয়েছি। ছোট্ট সন্তানের মুখেও ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে পারিনি। আজই ভ্যান নিয়ে বের হলাম। আশা করি সমস্যা কেটে যাবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সায়েদুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনে অনেক কষ্টকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক অব্যবস্থাপনা ছিল, সেগুলো এখন আর বলতে চাই না। তবে সামনের দিনগুলো নিয়েই বেশি চিন্তা। যে  লোকগুলো এই এলাকার বাইরে থাকে অথবা যে সব ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে আসবে এবং লকডাউনের কথা শুনে অন্যত্র চলে গিয়েছিল তারা তো আজ থেকেই এলাকায় ঢুকতে শুরু করবে। এই নতুন লোকগুলো করোনা ভাইরাস নিয়ে আসছে কি-না সেদিকে নজর রাখাটা জরুরি। এছাড়া দীর্ঘদিনের লকডাউন শেষে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, তাদের বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করবে সেটাও প্রশাসনকে দেখতে হবে।’

গতকাল সকালে রাজাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন গলির ভেতরের দোকানগুলো খুলেছে। দোকানের সামনে রশি টানিয়ে বিক্রি করছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। আব্দুল বাতেন নামে এক জন মুদি দোকানি বলেন, এখানে বাইরের লোক ব্যবসা করেছে। আমাদের দোকান বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে মানুষকে কেনাকাটা করতে হয়েছে। আমি নিজেও যে পণ্য বিক্রি করতাম ৬০ টাকায় সেটা ১০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। কষ্টের মাত্রা ছিল অবর্ণনীয়। ব্যবসা নেই, দাম বেশি তার পরও আজকে থেকে ব্যবসা করা যাবে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারের সব নির্দেশনা পালন করে আসছি। ২১ দিনের লকডাউন শেষ হলেও রাজাবাজার এলাকায় প্রবেশের মোট আটটি গেটের মধ্যে মাত্র দুটি আমরা খুলে দিয়েছি, বাকি ছয়টি গেটই বন্ধ আছে। ফলে রিকশা বা গাড়িতে করে বহিরাগত প্রবেশের সুযোগটা কম থাকবে। তাছাড়া লকডাউন খুললেও স্বাস্থ্যবিধি মানার সকল প্রকার কার্যক্রম আমরা চলমান রাখছি। নতুন করে যেন সংক্রমণ না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

লকডাউন শুরুর আগে পূর্ব রাজাবাজারে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। লকডাউনের ২১ দিনে ২০৫ জনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ জনের পজিটিভ ধরা পড়েছে।