চুয়াডাঙ্গা ও গাইবান্ধায় সরকারি চালবোঝাই ট্রাক আটক

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ২২:৪১

মঙ্গলবার রাতে চুয়াডাঙ্গায় ও গতকাল বুধবার সকালে গাইবান্ধায় সরকারি চালবোঝাই ট্রাক আটকের ঘটনা ঘটেছে।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার রাতে জীবননগর উপজেলার দেহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির ২০ টন চাল বোঝাই একটি ট্রাক আটক করে। পরে তা জব্দ দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। অভিযানকালে ট্রাকের চালক ও সহযোগী পালিয়ে যায়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত চালের বস্তার গায়ে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি ও খাদ্য অধিদপ্তর’ লেখা রয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মামুন অর রশিদ জানান, কোথা থেকে এবং কীভাবে এ চাল এলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এ চাল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা থেকে চালান হয়ে এসেছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির এ চাল বিক্রির পর তা দেহাটির তৃপ্তি অটোরাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল পালিস করে নতুন চাল হিসেবে দেখানোর জন্য। পালিশ করা চাল একই বস্তায় ভরে সরকারি নতুন ক্রয়মূল্যে ফের গোডাউনে সরবরাহ করে মোটা অংকের টাকা লাভের পরিকল্পনা ছিল।  গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় ট্রাক ভর্তি ১৭৪ বস্তা সরকারি চালসহ ২ জনকে বুধবার সকালে জেলা শহরের ভিএইড রোডের খন্দকার মোড় এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। আটক দুই জন হলো, সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের সুজালপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ ও ট্রাক ড্রাইভার রাজু মিয়া।

গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, সম্প্রতি আব্দুল আজিজ সরকারি ঐ চাল গোপনে ক্রয় করেন। পরে গাইবান্ধা শহরের জনৈক এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে বুধবার ঐ চাল ট্রাকযোগে নিয়ে আসছিলেন। তিনি আরো জানান, ৫০ কেজি ওজনের ১৭৪টি চালের বস্তার প্রতিটির গায়ে খাদ্য বিভাগের সিল রয়েছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

চাঁদখানায় ভিজিএফের চাল আত্মসাতের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ভিজিএফের চাল আত্মসাতের তদন্ত বিলম্বিত করার অভিযোগ উঠেছে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশে ঐ কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম গুটিয়ে নথি ফাইলবন্দি করেন। ফলে ১০ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখতে পারেনি। 

জানা য়ায়, গত ঈদুল আজহায় চাঁদখানা ইউনিয়নের ৫ হাজার ৬৮৪ জন অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্র সুবিধাভোগীর জন্য ৮৫ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি ভুয়া মাস্টাররোল দাখিলের মাধ্যমে বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক চাল আত্মসাত্ করেন। তালিকাভুক্ত অনেক সুবিধাভোগী এক ছটাক চালও না পাওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এ খবরটি কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি অতিসত্বর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম।

এ ব্যাপারে জানতে আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি কিছু বলতে পারব না, পরে কথা হবে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোভিট-১৯ পরিস্থিতির কারণে তদন্তে দেরি হচ্ছে।