করোনা তাণ্ডবে বিশ্ব আজ ত্রাহি দশা। ঘরবন্দি এখন সবাই। ব্যতিক্রম নন শোবিজ ও নানান অঙ্গনের তারকারাও। কারো সময়টা যাচ্ছে বন্দেগিতে, কেউবা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় সমবেত হবার ঘোষণা দিচ্ছেন এবং কেউবা দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারে টানছেন যবনিকা। তারকাদের ধর্মের পথ ধরার ব্যাপারে রয়েছে দুটি ধারা: (ক) ইসলাম সম্পর্কে পড়ে বুঝে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও (খ) জন্মসূত্রে মুসলমান, দীর্ঘ গ্লানিকর জীবনের পর ইসলামের পথে প্রত্যাবর্তন।
ধর্মান্তরিতের ক্ষেত্রে পূর্বকৃতর্মের দায় নেই। মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘যারা কুফরি করে, তাদের বলে দাও, তারা যদি (কুফরি থেকে) বিরত হয়, তবে অতীতে যা কিছু হয়েছে, তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে...’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ৩৮)। প্রিয়নবি (স) বলেন, ‘ইসলামগ্রহণ আগের সব পাপ মোচন করে দেয়’ (মুসলিম)।
জন্মসূত্রে মুসলমান নিজের ভুল বুঝে সংশোধিত হলে, তারও আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হওয়া নিষেধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহ্র রহমত হতে নিরাশ হয়ো না...’ (সুরা যুমার, আয়াত: ৫৩)। তবে পূর্ব কৃতকর্মের জন্য তওবা জরুরি। তওবার উদাহরণ প্রসঙ্গে বুখারি শরিফে রয়েছে—‘এক বেদুইন-মুসাফির তার সর্বস্ব হারিয়ে নিরুপায় ও অস্থির মনে নিজের মৃত্যু কামনা করছে! এমন সময় তার হারান সম্পদ ফিরে পাওয়ার আনন্দ ও উত্তেজনায় সে বলছে ‘আন্তা আবদি ওয়া আনা রাব্বুক’ অর্থাত্ ‘আল্লাহ্ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু’! আসলে হবে—আল্লাহ্ তুমিই আমার প্রভু আর আমি তোমার বান্দা। বাস্তুহারা পথিক তার সম্বল ফিরে পাওয়ার আনন্দে যেমন খুশি হয়— পাপী ও পথহারা বান্দা যখন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্র দরবারে হাজির হয়, তখন আল্লাহ্ তার চেয়ে বেশি খুশি হন।
সম্প্রতি দীর্ঘ ষোল বছরের আলোকোজ্জ্বল দুনিয়াকে গুডবাই জানালেন মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। উদ্দেশ্য, ধর্মের পথে জীবন পরিচালিত করা। অভিনয় ত্যাগের ঘোষণা দিলেন মডেল ও অভিনেত্রী এ্যানি খান। ধর্মকর্মে জীবন কাটানোর জন্য ২৩ বছরের ক্যারিয়ারকে বিদায় জানালেন তিনি। কেনিয়ার উদ্যোক্তা, মডেল ও নন্দিত বেতার উপস্থাপক তানাশা দোনা বারবিয়ারি। ইসলাম গ্রহণ করে তার নাম রেখেছেন আয়েশা। বিখ্যাত ব্রিটিশ জামাইকার নন্দিত নৃত্যশিল্পী লিসা মার্সেদেজ, তার ধর্মের পথে আসা প্রসঙ্গে বলেন, আগে আমি নাচ করতাম। তখন খোলামেলা পোশাক পরতাম। কিন্তু এখন প্রায় সবসময়ই হিজাব পরি।
কোভিড-১৯ ঝড়ে একরকম গৃহবন্দি অস্ট্রেলিয়ার রেসলিং তারকা উইলহেলম। অবসরে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন ইসলামি জ্ঞান-গবেষণায়। তিনি নিজের অনুভূতি জানালেন: আমার প্রকৃত সত্তাকে চিনতে পেরেছি, তাই আমি গর্বের সঙ্গে কলমা পড়ে মুসলমান হলাম। বস্তুত মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে, অন্যদিকে ক্ষমা করা মহান আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠতম গুণ। এমনই বাস্তবতায় ধর্মের পথ ধরা প্রশংসনীয়। অবশ্যই এই ফেরাটা হতে হবে স্বার্থ-শর্তহীন এবং পরিপূর্ণ ও স্থায়ী। পবিত্র কোরআনের আহ্বান—‘তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ কর’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৮)।
lলেখক :ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
