খালের নাম কানমালা। সেতুর নাম মলাকান। এলজিইডির এই সেতুটি বন্যায় ভেঙেছে চার বছর আগে। এখন পারাপার বাঁশের সাঁকোয়। তাই দুর্ভোগটা অবর্ণনীয়। জানা যায়, ১৭ সালের বন্যায় কানমলা খালের মলাকান সেতু ভেঙে পড়ে। সেখানে আর নতুন সেতু হয়নি। পারাপার চলছে বাঁশের সাঁকোয়। কখনো ইউনিয়ন পরিষদ আবার কখনো গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়ে বানায় সাঁকো। বেড়াডাকুরি গ্রামের নাজমুল হক জানান, ৮৫ সালে নির্মিত হয় মলাকান সেতু। সড়কপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঝাওয়াইল-ভেঙ্গুলা সড়ক থেকে নেমে আসা বাইপাস সড়ক বেড়াডাকুরি স্কুল প্রাঙ্গণ ঘেঁষে কানমলা খাল পেরিয়ে মিশেছে সরিষাবাড়ীর ফুলদহপাড়ার গোপালপুর-পিংনা সড়কে। বেড়াডাকুরি গ্রামে একটি হাইস্কুল, একটি প্রাইমারি স্কুল ও একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। সরিষাবাড়ী ও গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ও পিংনা ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের শিশুরা এখানে পড়াশোনা করে। এসব স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী কানমলা খাল পাড়ি দিয়ে আসা-যাওয়া করে।
বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিতে শিশুদের বড়ই কষ্ট। ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফিরোজ হোসেন জানান, বড় বিলকে বাঘআঁচড়া গাঙে যুক্ত করেছে কানমলা খাল। একসময় এটি গভীর ছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, গুদারা নৌকায় খাল পাড়ি দিতে কারো পকেটে পয়সা না থাকলে পাটনি বা ঘাটিয়াল কান ধরে উঠবস করাতেন। সেই থেকে নাম কানমলা খাল। খালের পাড়েই ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঘাটবাড়ী। ৮৫ সালে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এ খালে সেতু নির্মাণের সময় কানমলা শব্দ নিয়ে গ্রামবাসী আপত্তি তোলেন। তখন সেতুর নাম কানমলার পরিবর্তে রাখা হয় মলাকান। সেই থেকে কানমলা খালের নাম মলাকান সেতু। চার বছর আগে মলাকান সেতু ধসে পড়ায় এলাকার হাটুরেরা পিংনা হাটে গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া-আসা করতে পারছে না। কৃষিপণ্য বা মালামাল আনা-নেওয়া করা যাচ্ছে না। ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, এসব ছোটোখাটো সেতু মানুষ পারাপার ছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ। অথচ বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এলজিইডি সেতুটি করছে না। গোপালপুর এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, সরেজমিন তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে মলাকান সেতু হবে বলে আশাবাদী তিনি।
