বর্ষায় হরেক রকম ফুল ফোটে। ফুলের মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে থাকে আকাশে-বাতাসে। বর্ষায় ফোটা ফুলের মধ্যে রেইন লিলি অন্যতম একটি। নাম শুনেই বুঝে নেওয়া যায় বর্ষার ফুল। বর্ষার প্রকৃতিতে এ ফুল হাজির হয় রং বাহারি রূপে। বর্ষায় ফোটে বলে ‘রেইন লিলি’ নাম। বছরের অন্য সময়ে দেখা মেলে না। ফুল ফোটার ব্যাপ্তি বর্ষা থেকে শরত্কাল অবধি। আমাদের দেশে যত প্রকার লিলি ফুলের দেখা পাওয়া যায়, তার অধিকাংশ বিদেশি প্রজাতির এবং এদের সুনির্দিষ্ট বাংলা নাম নেই। পেঁয়াজ ফুল, রসুন ফুল, ঘাস ফুল নামে লিলি ফুলটি আমাদের দেশে অধিক পরিচিত। অন্যান্য পরিচিত নাম—ফেয়ার লিলি, রেইন ফ্লাউয়ার, জেফায়ার লিলি, ম্যাজিক লিলি ইত্যাদি। পরিবার Amaryllidaceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Zephyranthes rosea। আদি নিবাস পেরু, কলম্বিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।
সাদা, হলুদ ও গোলাপি রঙের রেইন লিলি দেখা যায়। তবে গোলাপি রংটা বেশি চোখে পড়ে। ঊর্ধ্বমুখি এ ফুলের দণ্ড মাটি ফুঁড়ে বের হয়। পাপড়ি সংখ্যা ৫ থেকে ৭টি, মাঝে পরাগ অবস্থিত। ফুল গন্ধহীন। বহু বর্ষজীবী এ রেইন লিলি গাছ উচ্চতায় ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি হয়। গাছ বেশ কষ্ট সহনশীল। অযত্ন-অবহেলাতেও টিকে থাকতে পারে। গাছ গুচ্ছবদ্ধভাবে বেড়ে ওঠে। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ ও চিরল, লম্বায় প্রায় ৬ ইঞ্চি।
টবে ও সরাসরি মাটিতে রোপণ উপযোগী ফুলগাছ। রৌদ্রোজ্জ্বল উঁচু ভূমি ও পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত স্থানে ভালো জন্মে। রেইন লিলি ফুলের অন্যরকম বৈশিষ্ট্য হলো বাগান সজ্জায় একে সুবিধামতো নকশায় রোপণ করে বিভিন্ন রূপে রূপদান করা যায়। এতে ঐ স্থানের সৌন্দর্য অনেক বাড়ে। ফুল শেষে গাছে বীজ ধরে। কন্দ চারার মাধ্যমে খুব সহজে এর বংশ বিস্তার করা যায়। কন্দ থেকে তৈরি করা যায় মূল্যবান পারফিউম অয়েল।
