‘ফুটবলের উন্নয়নের জন্যই একজন টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর রাখা জরুরি। ফিফার নির্দেশনা আছে। আমাদের আরো আগেই এই পদটি ভরাট করা জরুরি ছিল। ফিফা দেখবে টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর আছে কি না—বলছিলেন বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আওয়াল। কিন্তু করোনার মহামারিতে তাড়াহুড়ো কেন? তাবিথ বললেন, ‘তাড়াহুড়ো করা হয়নি। আমরা তো বলছি এখানে ফিফার নির্দেশনা আছে। ফিফার আরো যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেগুলো গ্রহণ করতে গেলে টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরের উপস্থিতি প্রয়োজন। পলসম্মলীকে নেওয়ার ব্যাপারে ফিফার অনুমতি এখনো পাইনি। দুই-এক দিনে সময় পেলে নিয়োগ সম্পন্ন করব। সব প্রক্রিয়া গোছান।’
টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরের বেতন দেয় ফিফা। এই পদটি না থাকলে বাফুফের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও আটকে যাবে। এটা গুরুত্ব দিচ্ছে বাফুফে। কিন্তু চলে যাওয়া পলসম্মলীকেই বা কেন আনা হলো? বাফুফের অভ্যন্তরেই পলের বিরুদ্ধে আপত্তির কথা সব শোনা গেছে। তাবিথ বললেন, ‘আমরা পাঁচটা বায়োডাটা পেয়েছিলাম। এর মধ্যে তিন জনকে বাছাই করলে সেখানে পলসম্মলী এগিয়ে ছিলেন। তা ছাড়া সে আগেও কাজ করে গিয়েছেন। তিন বছর ছিল, ৭০ জন হতে ৪০০ সার্টিফিকেটধারী কোচ হয়েছে দেশে।’
তিন বছরে নারী ফুটবল নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পলসম্মলী। কখনো জেলায় যায়নি। খেলোয়াড় বাছাই করেনি। কোচিং কোর্স করানো, নারী ফুটবলে কাজ করা আর জাতীয় দলে কাজ না করলেও জাতীয় দলের সঙ্গে তিন বছরে সব দেশই ভ্রমণ ছিল তার নেশা। তার টিকিট না থাকলেই চোটপাট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে। বাফুফের কর্মকর্তা তাবিথ বললেন, ‘এটা ঠিক নারী ফুটবলের সঙ্গেই ছিলেন ৮০ পারসেন্ট। এটাও ভাবতে হবে জেমি ডে জাতীয় দলে পলকে চায় কি না।’
দুই বছরের জন্য নেওয়া হচ্ছে পলকে। বেতন কত বলেননি তিনি। তাবিথ বলছেন, ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ দেওয়া হচ্ছে পলকে। বেশ কিছু ফোকাস দেওয়া হয়েছে। মাইলস্টোন দেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় যেতে হবে। কোথায় কি অবস্থা তা খুঁজে বের করতে হবে। পরিকল্পনা করতে হবে। আরো বেশি কোচিং কোর্স করতে হবে। যতবেশি প্রশিক্ষিত কোচ বের হবে ততই ভালো। ১২০টা একাডেমি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তার পুরো দায়িত্ব পালন করবেন পলসম্মলী। আরো চারটি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম থাকবে ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য।’ হুঁশিয়ারী দিয়েছেন কাজে সন্তুষ্ট না হলে বিদায় নিতেও দেরি করবেন তা। বলেছেন, ‘পলকে নেওয়ার ব্যাপারে বাফুফের মিটিংয়ে ফাইনাল হবে।’
