ভদ্রলোক মনোহরের বিদায়

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২১:৫০

এন শ্রীনিবাসন বলেছেন, আইসিসি থেকে একজন ‘ভারত বিদ্বেষী’, একজন ‘কুচক্রী’ বিদায় নিয়েছেন।

যারা ক্রিকেট রাজনীতি সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা রাখেন, তারা বুঝতে পারছেন, শ্রীনিবাসন যার নিন্দা করেন, তিনি অবশ্যই ভালো মানুষ। হ্যাঁ, আইসিসির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের কথা হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট, ভারতীয় আইনজগত এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অবিসংবাদিত একজন ভদ্রলোক হিসেবেই আইসিসি থেকে বিদায় নিলেন শশাঙ্ক মনোহর। চার বছরের সময়কালে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন আইসিসিকে কুচক্রীদের হাত থেকে বের করে আনার জন্য।

শশাঙ্ক মনোহর প্রথম ক্রিকেটের আলোচনায় আসেন ১৯৯৬ সালে। তখন তিনি বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শরদ পাওয়ার এবং রাজ্যের  অ্যাডভোকেট জেনারেল ছিলেন শশাঙ্কর বাবা ভিআর মনোহর। শরদ পাওয়ারের সঙ্গে সে সময় রাজ্যের সবচেয়ে দুঁদে উকিল হিসেবে মনোহরের দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে। পাওয়ারই তাকে ক্রিকেটে নিয়ে আসেন।

২০০৬ সালে পাওয়ার যখন ভারতীয় বোর্ড সভাপতি হলেন, তখন তার মুখ্য উপদেষ্টা ছিলেন এই মনোহর। পরে ২০০৮ সালে পাওয়ার বিদায় নিলে প্রথম ভারতীয় বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হন মনোহর। তার সময়ে ভারত বিশ্বকাপ জেতে এবং আইপিএল শুরু হয়। যদিও আইপিএলটা মনোহর পছন্দ করতেন না। এই আইপিএল নিয়ে কেলেঙ্কারি করায় ২০১০ সালে মনোহর আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেন লোলিত মোদীকে। সেই প্রথম তিনি বুঝিয়ে দেন তিনি নিজের শরীরে কালো দাগ লাগতে দেবেন না। ২০১১ সালে স্বেচ্ছায় এই জগত্ ছেড়ে চলে যান।

২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুতে ভারতীয় বোর্ড অবিতর্কিত একজন সভাপতি খোঁজ করছিল। তখন এই মানুষটিকে আবার নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এন শ্রীনিবাসনের সঙ্গে প্রবল মতবিরোধের কারণে তিনি ২০১৬ সালে এই পদ থেকে সরে যান। এর দুই দিন পর তাকে আইসিসি সভাপতি করা হয়। আর এখান থেকেই মনোহরের এক নতুন বিপ্লবের শুরু হয়।

আইসিসিতে ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েই শুরু করেন তিন মোড়লের বিরোধিতা। প্রথম বৈঠকেই বলে দেন, এসব বিশেষ ক্ষমতা এখানে থাকবে না। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড বিরাট বিপাকে পড়ে যায়। রীতিমতো যুদ্ধাবস্থায় ১০ মাসের মাথায় পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন মনোহর। কিন্তু বাকি দেশগুলোর অনুরোধে পদে থেকে যান। এরপর দ্বিতীয় দফায়ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এই দুই দফা দায়িত্ব পালনকালে মনোহর আইসিসিতে যে ক্ষমতার চক্র গড়ে উঠেছিল, সেটা একেবারেই ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ভারতীয় কিছু সংগঠকের চক্ষুশূল হন তিনি। ভারতকে পাওনা টাকার জন্য রীতিমতো চাপে ফেলেছিলেন তিনি। এই মনোহরের বিদায়ে শ্রীনিবাসনরা তাই খুশি হলেও ক্রিকেটের জন্য এটা দুঃখজনক ঘটনা।