চলে গেলেন এভারটন উইকস

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২১:৫১

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অপরাজেয় দলে পরিণত করার পেছনে অবিস্মরণীয় মনে করা হয় থ্রি ডব্লিউকে—উইকস, ওরেল ও ওয়ালকট।

স্যার ফ্রাংক ওরেল ও স্যার ক্লাইড ওয়ালকট আগেই চলে গেছেন পরপারে। এবার শেষ ডব্লিউ হিসেবে দুনিয়া ছেড়ে গেলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান স্যার এভারটন উইকস। বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মাঝে একবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছে। অবশেষে ৯৫ বছর বয়সে বারবাডোজে নিজের বাড়িতে মারা গেছেন এই কিংবদন্তি।

মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে বারবাডোজে জন্ম হয়েছিল তিন কিংবদন্তির। একই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন তারা। তবে উইকসের নিজেকে চেনাতে একটু সময় লেগেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম তিন টেস্টের পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করতে না পারায় বাদ পড়ে যান।

কিন্তু ভাগ্য তাকে আবার ফিরিয়ে আনে। আরেক কিংবদন্তি জর্জ হেডলির চোটে উইকস আরেকটি সুযোগ পেয়ে যান সিরিজের শেষ টেস্টে। জ্যামাইকায় সেই ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামার পর থেকেই তাকে ক্রমাগত দুয়ো দিয়ে গেছেন দর্শকেরা। তারা একাদশে দেখতে চেয়েছিলেন স্থানীয় ক্রিকেটার জন হল্টকে। কিন্তু সেই দুয়োকে তালিতে পরিণত করেন উইকস ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের ভারত সফরে টানা চার ইনিংসে করেন সেঞ্চুরি। টানা পাঁচ ইনিংসে সেঞ্চুরির সেই বিশ্বরেকর্ড টিকে আছে এখনো। টানা ছয়টিও করতে পারতেন। ষষ্ঠ ইনিংসে ৯০ রানে আর আউট হয়ে যান। তিনি আজীবনই বলে গেছেন, আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্তে আউট দিয়েছিলেন তাকে। টেস্টে হাজার রান ছুঁতে উইকসের লেগেছিল মোটে ১২ ইনিংস। দ্রুততম ১ হাজার রানের সেই রেকর্ডও এখনো টিকে আছে বহাল-তবিয়তে। ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ড সফরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর পান উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি। মাত্র ৪৮ টেস্টেই করেছেন ১৫ সেঞ্চুরি ও ১৯ ফিফটি। ৫৮.৬১ গড়ে রান করেছেন ৪ হাজার ৪৫৫।