আফ্রিকার বতসোয়ানায় কয়েক শ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২১:৫৩

আফ্রিকার বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হাতির মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি।

মে মাসের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ওকাভাঙ্গো বদ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে। হাতিগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে কেউ কোনো ধারণা দিতে পারছে না। দেশটির সরকার বলছে, প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে। এ রিপোর্ট আরো সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়। খবর বিবিসি বাংলার

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্যপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা ড. নিয়াল ম্যাককান বলেন, ‘যে বিপুলসংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোনো একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।’ বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ফিসের খবর অনুযায়ী, এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে চোরাশিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানা সরকার। কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেওয়া হয়নি। ম্যাককান বলেন, ‘সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোনো প্রাণী নয়। যদি চোরাশিকারিদের দেওয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেত, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেত।’ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০-এরও বেশি হাতি মারা গিয়েছিল।

ম্যাককানের মতে যেভাবে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে, অনেকগুলো হাতিকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং অন্য হাতিগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাতিগুলোর স্নায়বিক প্রক্রিয়া কোনো ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা না যাওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে কোনো রোগ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে কি-না, সেই সম্ভাবনাও বাতিল করে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে যখন জানা যাচ্ছে না যে, পানির উত্স বা মাটি থেকে কোনো ধরনের বিষক্রিয়া হচ্ছে কি-না। কোভিড-১৯ মহামারি এখন প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে ম্যাককান, ‘এটি পরিবেশগত বিপর্যয়, তবে এটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগেও পরিণত হতে পারে।’