বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে সরকার পাটকল বন্ধ করছে :বামজোট

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২২:২৬

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, আশির দশকের পর থেকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সাম্রাজ্যবাদী পরামর্শে দেশে একের পর এক পাটকল বন্ধ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিশ্বে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের যন্ত্রাংশ আধুনিকায়ন করলে শ্রমিক ছাঁটাই নয় বরং নতুন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পাটকল আধুনিকায়ন করার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এ কথা বলেন।

সমাবেশে জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন, ‘অজগর বাংলাদেশের অর্থনীতি খেয়ে ফেলছে।’ তখন আমরা বুঝে গেছি, তারা পাট খাতকে ধ্বংস করতে চায়। তারা আদমজী বন্ধ করল। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী অবশিষ্ট ২৫টি পাটকল ধ্বংস করার জন্য চক্রান্ত করছেন। সে কারণে আমরা বলতে চাই, রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধা তারা আজকে একাকার হয়ে গেছে। তাদের সবার লক্ষ্য, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও লুটপাট করা।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সেই ৫১, ৫৪ সালে কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছি। সে কারখানার যন্ত্রপাতি এতদিন চলে? সেগুলোকে বিএমআরই করা হয় না। আর বিএমআরই করলেও সেগুলো এখন আর নতুন হবে না। যন্ত্রপাতির উত্পাদন ক্ষমতা ১৮ টন ছিল, কমতে কমতে ৯ টনে নেমে এসেছে। কাজেই ৯ টন উত্পাদন ক্ষমতা দিয়ে কেমনে এই পাটশিল্প রক্ষা করবে? স্কপের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করে আধুনিকায়ন করতে, তাতে উত্পাদন তিন গুণ হতো।

সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক বলেন, সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে লাখ লাখ পাটচাষি সস্তায় পাট বিক্রি করতে বাধ্য হবে। সিপিবির সহসাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, যে টাকা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের জন্য বরাদ্দ হয়েছে সেই টাকা দিয়ে নিয়মিত শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব।