‘হত্যার পর লাশ ড্রামে ভরে পানিতে ডুবানো হয়’

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২২:২৭

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার ব্যবসায়ী হেকমত আলী (৪০) অপহরণের তিন মাস পর তার গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার কাঞ্চনের কুশাবো এলাকার জলাশয়ের পানিতে ডুবানো তেলের ড্রাম থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত হেকমত আলী পশ্চিম কালাদী গ্রামের মৃত কদম আলীর ছেলে।

সরজমিনে জানা গেছে, হেকমত আলী গাউসিয়া মার্কেটে মোটরপার্টসের ব্যবসা করতেন। তার দোকানের কর্মচারী কাঞ্চনের কেরাব এলাকার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তিনি এক সময় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। গত ৪ এপ্রিল হেকমত আলীকে বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনেন রফিকুল ইসলাম। এর পর থেকে হেকমত নিখোঁজ হন। গত ১৪ এপ্রিল হেকমত আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে রফিকুল ইসলাম সবুজ, তার সহযোগী মাহফুজুর রহমান, আল-মামুন ও ইয়াকুবকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় গুমের মামলা করেন। পুলিশ রফিকুল ইসলাম সবুজকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরে থানা পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে রোকসানা বেগম মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গত ১৮ জুন হেকমত আলী গুমের মামলার দায়িত্ব দেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জকে। গত ২৬ জুন মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের এসআই আবু সায়েমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৩০ জুন আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় রফিকুল ইসলাম সবুজকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা। রফিকুল রিমান্ডে জবানবন্দিতে শ্বাসরোধে হেকমত আলীকে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করে। পরে তেলের ড্রামে লাশ ভরে ড্রামটি বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।