আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অবিস্মরণীয় বিজয় হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ এগিয়ে যাবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় হওয়ায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ ১৪ দলের নেতারা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পরে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বনানীতে জাতীয় তিন নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীর কবরে এবং ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ চলতে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ সরকার হবে। বিরোধী যারা থাকবে তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হবে। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে আমরা বাংলাদেশ থেকে রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় ও মহাজোট জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বিজয় লাভ করেছে। আমি মনে করি, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছেন, আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো-সাম্প্রদায়িক-সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে, আজকে আলোকিত বাংলাদেশ হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে। তরুণ সমাজ এবং নারীরা পর্যন্ত আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তির বিজয়ের জন্য কাজ করেছে।’
বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট শপথ না নিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিচ্ছে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনো জোট বা দল প্রতিবাদ করতেই পারে। এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, নৌ-পরবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজ বাঙাল প্রমুখ।
