বাজেটে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সুযোগ বেড়েছে : ফখরুল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:৫৭

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটকারীদের আরো সুযোগ বৃদ্ধির বাজেট বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, এসএমই, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ব্যয় বরাদ্দের ফলে এ দেশের জনগণের মাঝে সীমাহীন ‘হতাশা ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়েছে। এ বাজেট করোনার সময়ে স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেওয়ার বাজেট, কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়ার বাজেট, কৃষিকে ধ্বংস করে খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরো মন্দায় ফেলে দেওয়ার বাজেট, সামষ্টিক অর্থনীতি ভেঙে ফেলার বাজেট। এটি ধনীদের সুবিধা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরো বৃদ্ধির বাজেট। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তরার বাসা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতাহীন একদলীয় সরকারের এ বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বাজেট লুটপাটকারী, ধনিকশ্রেণি ও আমলাতন্ত্রনির্ভর অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে প্রস্তুত হয়েছে এবং বাজেটে তাদেরই স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে। ব্যাংকে আমানত কমে যাচ্ছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন, ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার ওপরে রাখলেই ৩ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ১ কোটি টাকার ওপরে থাকলে ১৫ হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। এতে আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বাজেটে মোবাইল ফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও তা পরিবর্তন করা হয়নি। তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষক উপেক্ষিত থেকে গেছে বাজেটে। মির্জা ফখরুল বলেন, করোনা সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাত নিয়েও দেওয়া হয়নি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব। করোন সংকটেও সরকার তথাকথিত মেগা প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ কমায়নি।