আবাসিকে ফের গ্যাস সংযোগের পরিকল্পনা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৭

আবাসিক খাতে পাইপলাইন গ্যাসের নতুন সংযোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ সম্প্রসারণ কতটুকু সম্ভব এবং কোন নীতি মেনে করা হবে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গ্যাসের দামবৃদ্ধিরও চিন্তাভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এলএনজি গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেশজ গ্যাসের সঙ্গে এলএনজি মিশিয়ে পাইপলাইনে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে গ্যাসের সার্বিক দাম বেড়ে গেছে। ব্যয়বহুল এ জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে। অন্যদিকে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। গ্যাস সংকট সামলাতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালীতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু সব এলাকাতেই আবাসিক গ্যাস সংযোগের দাবি তীব্র। বিতরণ সংস্থাগুলোতে অনেক আবেদন জমা পড়ে রয়েছে। অনেক জনপ্রতিনিধিও আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার পক্ষে। এ প্রেক্ষাপটে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, এলপিজি ও এলএনজির মূল্যহার নির্ধারণ এবং গৃহস্থালীতে নতুন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীয় অফিস ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমানকে কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) এক জন করে কর্মকর্তা রয়েছেন।   

কমিটির একাধিক সদস্য জানান, আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেয়ার ব্যপারে নীতিগতভাবে সবপক্ষই একমত। তবে দেশজ গ্যাসের সংকটের মধ্যে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।                এলএনজি আমদানি এবং রেশনিং করে বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ করার পরও দৈনিক গ্যাস ঘাটতি প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। তবে আগামী মার্চ-এপ্রিলে সামিট গ্রুপের এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, আবাসিকে এলপিজি ব্যবহারকে অনুপ্রাণিত করছে সরকার। তবে এর ওপর শতভাগ নির্ভরতা এখনই উপযুক্ত হবে না। এলপিজির ব্যবহারবৃদ্ধিতে ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। এ অবস্থায় আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে কোন উপায়ে বা নীতিতে ভর করে সংযোগ দেয়া হবে তা নিয়ে সবাই একমত নন। কারো মতে, ইতিমধ্যে ডিমান্ড নোট ইস্যু হয়ে গেছে অর্থাত্ সংযোগের জন্য টাকা জমা দিয়ে অপেক্ষারত আবেদনকারীদের পাইপলাইনের গ্যাস দেয়া হোক। এছাড়া যেসব বহুতল ভবনে ইতিমধ্যে সংযোগ রয়েছে কিন্তু ভবনের সম্প্রসারিত অংশ বা বর্ধিত ফ্লাটগুলোতে গ্যাস নেই সেগুলোতেও সংযোগ দেয়া হবে। কেউ বলছেন, বর্তমান বিতরণ লাইনে সিস্টেম লস হচ্ছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। শহরে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণ ঝুঁকিপূর্ণও। তাই বিদ্যমান বিতরণ লাইন ব্যবহার করে যতটুকু সম্ভব সংযোগ বাড়ানো যেতে পারে। দ্বিমত করা দুই পক্ষই অবশ্য গৃহস্থালীতে অবাধ গ্যাস সংযোগের পক্ষে নন। একইসঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিরও সুপারিশ করবেন তারা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী এক বৈঠকে গৃহস্থালী সংযোগের জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যা এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের কতটুকু চাহিদা রয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪২০ কোটি ঘনফুট। এলএনজিসহ দৈনিক গ্যাস উত্পাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ৩২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাত্ গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে ১০০ কোটি ঘনফুট।

গত ১৬ অক্টোবর দেশে বিদ্যমান গ্যাস উত্পাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি বলে, জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রবেশের কারণে যতটুকু খরচ বেড়েছে তা শুল্ক-কর মওকুফ এবং ভর্তুকির মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবে সরকার। এতটুকু সক্ষমতা জ্বালানি খাতের রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়লে গ্যাসের দামও বাড়াতে হবে। কমিশনের সদস্য আবদুল আজিজ খান জানান, সরকার এলএনজি আমদানির কারণে বেড়ে যাওয়া খরচের বিপরীতে অর্থ সংস্থানের দায়িত্ব নিয়েছে। এজন্য চলতি অর্থ বছরে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এলএনজির ব্যবহার বাড়লে দাম বৃদ্ধি করতে হবে।