স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে থমকে রয়েছে দেশের ক্রিকেট। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, ক্রিকেট ফেরাতে মাঠগুলো প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ক্রিকেট ভেন্যুতে যেসব কাজের বর্ণনা দিয়েছে বিসিবি, সেগুলো প্রাত্যহিক কর্মই বটে। করোনার কারণে এসব কাজও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি যা আবারও স্বরূপে ফিরছে।
দেশের ক্রিকেটাঙ্গন পুনরায় সচল হওয়ার একটা ইঙ্গিতই বহন করছে বিসিবির এই বিজ্ঞপ্তি। আদৌ ক্রিকেটীয় কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার চিন্তাভাবনা কী, তা হয়তো বিশদ আকারে জানা যাচ্ছে না। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ক্রিকেট শুরুর খুব কাছাকাছিই আছে বিসিবি। করোনা পরিস্থিতির আরো একটু উন্নতি হলে জুলাইয়ের শেষ দিকে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ক্রিকেটাঙ্গনকে সরব দেখা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্পই অনুষ্ঠিত হবে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চলছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বেশির ভাগ বাসায় থাকলেও কর্মকর্তারা জরুরি প্রয়োজনে অফিস করছেন। নিয়মিত মিটিংও তারা করছেন। তাদের মিটিংয়ে ক্রিকেট শুরুর আলোচনা হচ্ছে। যার রূপরেখা তৈরি করছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ জুলাইয়ের পর ক্যাম্প শুরু হতে পারে।
গতকাল সূত্র জানায়, ‘আলোচনা তো হচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি কিছুই। হয়তো জুলাইয়ের শেষ দিকে বা অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে। আমাদের মাঠগুলোতে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম শুরু করা যায়। এটা আসলে পুরোপুরি নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই শুরু হয়ে যাবে। আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের কাজ করতে হবে। তারপরও আমার মনে হয়, এখনো কিছুদিন দেখতে হবে।’
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্যাম্প পরিচালনার ছকটা দেবে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। ঐ সূত্র থেকে জানা গেছে, পুরো পরিকল্পনাটাই মেডিক্যাল বিভাগ করবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী তারা পরিকল্পনা দেবে। কীভাবে সবকিছু হবে। মেডিক্যাল বিভাগের পর শুরু হবে নির্বাচকদের কাজ। তখন তারা ক্যাম্পের জন্য একটা প্রাথমিক স্কোয়াড দেবেন।
এদিকে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, শুরুতে ফিটনেস ক্যাম্প হবে। এজন্য ৩৮ জনের প্রাথমিক দল তারা তৈরি করে রেখেছেন। জানতে চাইলে গতকাল তিনি বলেন, আমাদের কাজ তো পরে। মেডিক্যাল বিভাগ থেকে বললে আমরা কাজ শুরু করব। ৩৮ জনের একটা প্রাথমিক দল তৈরি করাই আছে। তবে যদি এশিয়া কাপ হয় তাহলে দলটা ২৪ জনে নামিয়ে আনা হবে।
ফিটনেস ক্যাম্পের জন্য অন্তত চার সপ্তাহ লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘দেখেন ক্রিকেটাররা সবাই প্রায় ৪ মাস মাঠের বাইরে। পঞ্চম মাসে গিয়ে কাজ করবে। সেখানে ফিটনেসটা সবার আগে দেখতে হবে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ এছাড়া জাতীয় দল, এইচপি ছাড়াও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের জন্য নির্বাচকদের দিকনিদের্শনা থাকবে।
