ক্ষমতার অপব্যবহারই আইন প্রয়োগের অন্তরায়

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২১:২৮

প্রায়শই লক্ষ করা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হইয়া থাকেন। এই বত্সরই বিভিন্ন জেলায় ক্ষমতাসীন দলের বেশ কিছু নেতাকর্মী নিহত হইবার সংবাদ পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হইয়াছে। ইহা খুবই দুঃখজনক যা কাঙ্ক্ষিত নহে। কিন্তু কেন ইহা ঘটে তাহা গভীরভাবে উপলব্ধি করিবার দাবি রাখে। আমরা লক্ষ করিয়া থাকি, যেই দল যখন ক্ষমতায় থাকে তাহাদের মধ্যে প্রশাসনকে ব্যবহার করিবার প্রবণতা দেখা দেয়। সাধারণ্যের প্রতি জোরজবরদস্তির প্রবণতা তৈরি হয়। দেশে প্রচলিত আইন যাহাই থাকুক না কেন, তাহাদের বিরুদ্ধে সেই আইনের প্রয়োগ প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিকভাবে করিতে পারে না। তাহাদেরকে আইন উপেক্ষা করিয়া ক্ষমতাসীনদের কথা শুনিতে হয়। ফলে একটি বেপরোয়া পরিবেশ তৈরি হইতে দেখা যায়। ঐ সকল দলীয় লোকের কথা না শুনিয়া নিরপেক্ষভাবে কাজ করিতে গেলে সরকারি চাকুরিজীবী তথা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের হয়রানির সম্মুখীন হইতে হয়, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ চাকুরিও হুমকির সম্মুখীন হইয়া পড়ে। ফলে যখনই কোনো অন্যায় হয়, তাহার আইনি প্রতিকার না চাহিয়া কেহ কেহ সহিংস হইয়া উঠে এবং বিচারের ভার নিজের হাতে তুলিয়া লয়। কারণ, তাহারা জানে যে, প্রশাসনের নিকট হইতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি সহায়তা পাওয়া যাইবে না। যদিও যে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন হাতে তুলিয়া লওয়া কাঙ্ক্ষিত নহে।

এই সমস্যা বাংলাদেশের একার নহে। ইহা গোটা উপমহাদেশের একটি দীর্ঘকালীন অভিশপ্ত চিত্র। কিন্তু একটা বিষয় আমরা দিনের পর দিন লক্ষ করিয়া থাকি; তাহা হইল, আজ যাহারা মার খাইতেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাহারাই আবার ঘাতক হইয়া আবির্ভূত হইয়া উঠে। অতীতে যাহারা মার খাইয়াছে, আজ তাহারাই ঘাতক হইয়া আবির্ভূত হইতেছে। ইহা একটি চক্র বলা যায়।  কিন্তু প্রশ্ন হইল, এইভাবেই কি আমাদের দেশসহ সমগ্র উপমহাদেশ চলিতে থাকিবে? ইহার কি কোনো ব্যত্যয় হইবে না? ক্ষমতার অপব্যবহারের এই অপসংসস্কৃতি কি দূর হইবে না? আমরা জানি, একটি দেশে যতদিন পর্যন্ত দল-মতনির্বিশেষে সকলের জন্য আইনের প্রয়োগ ও আইনি অধিকার সমান না হইবে, ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া সম্ভব নহে; ততদিন পর্যন্ত মানুষের আইন হাতে তুলিয়া লইবার প্রবণতাও সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব হইবে না। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র যথার্থই বলিয়াছিলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। সেই আইনশৃঙ্খলা যখন প্রয়োগিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজের অগ্রসরতা বিপজ্জনকভাবে থমকাইয়া যায়।’ তাহার এই উক্তি মনে রাখিলে আমরা সার্বিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাইতে পারি।