দুর্ভোগে চার জেলার ৮ লাখ পানিবন্দি মানুষ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২২:৪৩

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি কোথাও অবনতি হয়েছে, আবার কোথাও অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা, ধরলা, তিস্তাসহ অনেক নদ-নদীর পানি বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ,  জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও টাঙ্গাইলে কমপক্ষে ৮ লাখ পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।  কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলায় ধরলা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যার্তদের। বেসরকারি তথ্য মতে জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। গত দুই দিন ধরে ভারি বর্ষণের কারণে সড়ক ও বাঁধের ওপর আশ্রিত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৫৭৯টি গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে ৫ শতাধিক পরিবার।  এছাড়া জেলায় ৯ হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নে সারডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে বন্যার পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরবর্তী ২০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বাঁধটি রক্ষার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ভাঙা অংশটি মেরামত করব।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, এক দিন বিরতি দিয়ে আবারও সিরাজগঞ্জে              যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাঁচ উপজেলার প্রায় ৩৩ ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রামের ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৩ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে প্রায় ৩ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমির ফসল। সাড়ে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ তলিয়ে গেছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে পানিবন্দি মানুষ বিভিন্ন বাঁধের ওপর আশ্রয় নিচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড  সিরাজগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী রণজিত্ কুমার জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় যমুনার পানি কিছুটা  হ্রাস পেলেও  এখনো বিপত্সীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিতে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪২টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির  ফসল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বানভাসিদের জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, জেলার ভূঞাপুরে আবার বাড়তে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। নদী তীর উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী এবং গোপালপুর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৯৩টি গ্রামের ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৭১ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১ হাজার ১৮৯টি ঘরবাড়ি। পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের পূর্ব তীরের ভূঞাপুরের গারাবাড়ি এলাকায় লিকেজ দেখা দেওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাঁধটি। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ১৬৩ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা বিতরণ শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি গত চার দিন থেকে ধীর গতিতে কমতে থাকলেও শুক্রবার তিস্তার পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। বন্যার পানি কমতে থাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে সাঘাটা উপজেলায়। গতকাল যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত  সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়। হুমকিতে আছে আশপাশের দুই শতাধিক বসতবাড়ি। অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।