‘এই যে ডায়লগ হচ্ছে এটাই ইতিবাচক’

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ১৯:৩৬

এদেশে খুব কম তারকাই আছেন, যারা একইসঙ্গে অভিনয় ও গানে শীর্ষ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই বিরলতম নাম তাহসান। সাম্প্রতিক সময়ের বেশকিছু ঘটনা নিয়ে নিজেস্ব মত ও দর্শন প্রকাশ করেছেন ‘জীবন যেখানে যেমন’ অনুষ্ঠানে। সেই কথোপকথনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশ করা হলো বিনোদন প্রতিদিন পাঠকের জন্য। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক। আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম কিস্তি—

কেমন আছেন?

এই সময়টা নিয়ে যেমন থাকা যায়। এছাড়াও দেখছি সবাই ফেসবুকে কিছু না কিছু করে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করছে। বেশকিছু লাইভেও অংশ নিয়েছি। অনেককেই না করেছি। আপনাকেও না করেছি। অবশেষে কথা হচ্ছে।

 

একটা বিষয় কৌতুহলী হয়ে জানতে চাই। অনেকের ধারণা তাহসান খানের আজকের এই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো স্ট্রাগল করতে হয়নি। আপনার জীবনে সত্যিই কী কোনো স্ট্রাগল নেই? আপনি নাকি অনেক বেশি সৌভাগ্যবান!

না, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। দেখুন, একেক জনের স্ট্রাগলটা একেক রকম থাকে। হ্যাঁ, আমি ভালো স্কুলে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু সমাজে এমন তো অনেক উদাহরণ আছে যে, তার পরিবার স্বচ্ছল, খুব দামি স্কুলে পড়েছে, তবুও তার শিক্ষার ফলাফল খুব একটা ভালো হয়নি। তেমনি বিপরীতটাও আছে। তাই জীবনে সফলতার জন্য স্ট্রাগল সবারই প্রয়োজন আছে। আমি যেমন কোনোরকম প্রত্যাশা ছাড়াই দিনরাত কি-বোর্ড নিয়ে বসে থাকতাম! কেউ কিন্তু আমাকে বলেনি সেসময় বসে থাকতে। এ রকম অনেক গল্প আছে। থাকে প্রত্যেকের জীবনে।

 

এখন যেহেতু ওপেন প্লাটফর্ম। ওয়েব সিরিজে ঘরে বসেই অনেকে খুব সহজেই বিভিন্ন কন্টেন্ট দেখতে পাচ্ছে। আর এই সহজলভ্যতা অশ্লীলতার বিতর্কে ঢুকে গেছে কিছু কন্টেন্ট। যার পক্ষে বিপক্ষে এখন দু-ভাগে আপনার সহকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আপনার মতামত কী?

দেখুন, সবকিছুতে যে আমার মতামত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে তা কিন্তু না। এ কারণে কিন্তু এ বিষয়ে আমি কোনো আগ্রহ পোষণ করিনি।

 

তবুও একজন জনপ্রিয় তারকা হিসেবে আপনারার নিজেস্ব দায়বোধ থেকে কিছু বলার থাকতে পারে...

আমাদের সমাজে সবসময় রীতিনীতির বদল হয়। যেমন দেখবেন আমাদের সমাজে এখন পায়ে ধরে সালাম করার রীতিটা কমে গেছে, খেয়াল করেছেন? আগে ঈদ মানেই গুরুজনদের পায়ে ধরে সালাম করার একটা রীতি চালু ছিল, সেটা কিন্তু কমেছে। অর্থাত্ আমাদের কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক চর্চার বদল হয়। কোন জিনিসটা অ্যাথিক্যাল, আর কোন জিনিসটা না, এটা কিন্তু চেঞ্জ হয়। এছাড়া মিউজিক দিয়ে উদাহরণ দিতে পারি। আজ একজন আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তার গিটার নিয়ে সৌধ হয় তার নিজেরই শহরে। কত বিশাল সম্মান। কিন্তু একজন আইয়ুব বাচ্চু তার নিজের যখন রক মিউজিক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন তখনও এটাকে অনেকে অপসংস্কৃতি বলেছিল। তাই যে কোনোকিছুর স্থায়ীত্বের ব্যাপারে সময় দিতে হয়।

 

তবে কী আপনি এটাকে ইতিবাচক বলছেন?

না, আমি এখানে বিচারকের ভূমিকায় থাকার কেউ না। আমি এটা কেমন সেটা বলারও কেউ না। এটা নির্ধারণ করবে দর্শকরা। দর্শকরাই আজ থেকে ২০ বছর পরে বলে দেবে কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল। একটা সময় কিন্তু সিনেমায় অশ্লীলতার কারণে দর্শকরা হলবিমুখ হয়েছিল। যারা সুস্থ সিনেমা দেখে অভ্যস্ত তারা সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছিল।

 

হ্যাঁ, সেটা সত্য। কিন্তু সেসময় তো সেই অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তত্কালীন তারকা কলাকুশলীরা মাঠে ব্যানার নিয়ে নেমেছিলেন। সেই প্রতিবাদটা জরুরি কি-না। নাকি ছেড়ে দেবেন যে, যা হচ্ছে হোক!

না, কখনোই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যারা নীতি নির্ধারণী জায়গায় রয়েছেন তারা তাদের কথা বলছেন। যারা ফিল্ম মেকার তারাও বলছেন। এই যে ডায়লগ হচ্ছে এটাই ইতিবাচক। আর আমার কাছে ইতিবাচক বিষয় হলো দর্শকরা এই ওয়েব কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা তো করছেন। যত আলোচনা তৈরি হবে দেশীয় কন্টেন্টে রেভিনিউ আসবে। সেই রেভিনিউ কিন্তু দেশীয় অর্থনীতিতেই কাজে লাগবে।

 

[আগামীকাল সমাপ্য]