দ্বৈত নীতির জটিলতার কারণে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুেলোকে ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রীর সময়ে এই জটিলতার নিরসন করা হয়েছিল। কিন্তু সদ্য পাশ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরে আবারও সেই জটিলতা ফিরে এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে অনেক দেনদরবার করেও বাজেট পাশের আগে এ জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণে ক্ষুব্ধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ‘আইএসপিএবি’। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এ জটিলতা নিরসন না হলে সারা দেশে কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।
গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন আইএসপিএবির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম হাকিম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক।
আইএসপিএবি সভাপতি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্য দুটি স্তরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত বদল করে অন্য দুটি স্তরেও (আইটিসি/আইআইজি, এনটিটিএন) ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। কিন্তু এর কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে পুনরায় ইন্টারনেট সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং অন্যান্য স্তরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় বিষয়টিতে আবারও আগের জটিলতা সৃষ্টি হয়। এটা এক দেশে দুই নীতি। এর কারণে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এ কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জানান, এ বছর সংসদে বাজেট পেশের আগেই আইএসপিএবি জটিলতা নিরসনের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোচরে আনে। বাজেট পাশের পরও বিষয়টি সমাধানের জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাদের অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি। আমিনুল ইসলাম হাকিম বলেন, জুলাই মাসের মধ্যে জটিলতার নিরসন না হলে তারা প্রথমে সীমিত কর্মসূচি হিসেবে দিনের কোনো একটি সময়ে সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখবেন। পরে প্রয়োজন হলে এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্থাত্ প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সপ্তাহে চলমান রাখা হবে। এর পরও সরকার দাবি না মানলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারেনটের মূল্য কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৮০ লাখের বেশি বাড়িতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এবং প্রতি সংযোগে গড়ে চার জন ব্যবহারকারী হিসাব করলে এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক। বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও চিকিত্সা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ইন্টারনেট কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
