করোনা ভাইরাস প্রার্দুভাবের মধ্যেই শূন্য থাকা দুটি সংসদীয় আসনের ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনে পুন:ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এর সঙ্গে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ সংসদীয় আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মধ্যে নির্বাচন করা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে ভোট স্থগিত করে দেয় ইসি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৩টায় নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বগুড়া এবং যশোর শূন্য আসনে উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সিইসি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখান থেকে সিইসিকে জানানো হয়েছে, সংবিধানে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব বিবেচনায় আগামী ১৪ জুলাই এ দুটি আসনে উপনির্বাচন হবে। ভোটকেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত বেসিন রাখা হবে। ভোটার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটগ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হবে। সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ছাড়াও অন্য কমিশনারগণ অংশ নেন।
সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ইত্তেফাককে জানান, কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট আয়োজন করা হবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই মূলত এই সংকটের মধ্যে ভোট করতে হচ্ছে। সংবিধানে বলা আছে, ১৮০ দিনের পর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোতে ভোটগ্রহণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি সচিব আরো বলেন, পুরো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে নয় বরং ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট করতে না পারলে আমরা খুশি হতাম। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী ভোট করতেই হবে। আমরা শুধু নির্বাচনের তারিখ স্থগিত করেছিলাম, তাই নতুন করে কারো প্রার্থী হওয়া বা প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ নেই। এখন আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন না। যেখানে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু হবে।
গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ এবং ২১ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যু যশোর-৬ আসন শূন্য হয়। সংবিধানের ১২৩(৪) অনুযায়ী সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় আসনে সেটা মানা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন আয়োজনের ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা গত এপ্রিলেই শেষ হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে কোনো ‘দৈব-দূর্বিপাকের কারণে’ এই দফায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান প্রদত্ত সিইসির হাতে থাকা পরবর্তী নব্বই দিন পার হবে যথাক্রমে ১৫ ও ১৮ জুলাই।
এদিকে, পাবনা-৪, ঢাকা-৫ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসন তিনটি শূন্য হলেও তফসিল ঘোষণা করেনি ইসি। পাবনা-৪ আসনের (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) সংসদ সদস্য সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান গত ২ এপ্রিল। ঢাকা-৫ আসনের (ডেমরা-দনিয়া-মাতুয়াইল) সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান গত ৬ মে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম গত ১৩ জুন মৃত্যুবরণ করায় জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি শূন্য হয়। প্রথম ৯০ দিনের হিসাব অনুযায়ী পাবনা-৪ আসনটির জন্য জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ, ঢাকা-৫ আসনটির জন্য আগস্ট মাসের প্রথমার্ধ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটের আয়োজন করতে হবে। যদিও ইতিমধ্যে পাবনা এবং ঢাকা আসনে প্রথম তিন মাসের পরিবর্তে পরবর্তী তিন মাসে ভোট করার জন্য গেজেট করেছে ইসি।
