নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দলসমূহের প্রস্তাবিত নিবন্ধন আইন ২০২০ অত্যন্ত পশ্চাত্মুখী যা নারীর ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন। গতকাল শনিবার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তারা।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর শম্পা বসু, মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ঝর্ণা বাড়ই।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নতুন যে প্রস্তাবিত আইন ওয়েবসাইটে দিয়েছে তা উল্লেখ করে বলেন, মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নারী, কিন্তু নারীর কণ্ঠস্বর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তেমন জোরালো নয়। পূর্বের আইনটি একটি যৌক্তিক আইন ছিল যা সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে গৃহীত হয়। কিন্ত এই আইনটি বাতিলের জন্য সম্প্রতি সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত পশ্চাত্মুখী যা নারীর ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই অবস্থায় তিনি আগের আইনটি বলবত্ রাখার দাবি জানান।
সভার শুরুতে বক্তারা কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন (২০০২) বিষয়ক যে প্রস্তাবনা করেছে সেটি স্থগিত রাখার পক্ষে মতামত দেন এবং আইনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নারীর ক্ষমতায়নের পরিপন্থি হওয়ায় উপস্থিত সকলে প্রস্তাবিত আইনটির বিরোধিতা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তে নারীর মতামত নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সূচকে এগিয়েছে, কিন্তু নারীর সার্বিক ক্ষেত্রে অবস্থান সুদৃঢ় করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরো কাজ করতে হবে। তিনি সকল রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নারীর দিকগুলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংশোধনের বিষয়টি বেশ রহস্যময়। কেননা অতীতের নানা রাজনৈতিক অবস্থায়ও আরপিও নিয়ে কাজের বিষয়টি আসেনি। এখনো নারীর অধিকার সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারী সংগঠনগুলোকে এখনো আন্দোলন করতে হয়।
আরোমা দত্ত বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি জেন্ডার বান্ধব নয়। অথচ দেশের স্বাধীনতা রক্ষাসহ সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে, নারীরা গভীর ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, এই আইন সংস্কারের মধ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র আছে।
ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন রাজনৈতিক দলে নারীদের ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করে বলেন, এটি বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন ছিল। তিনি আরপিও পরিবর্তনের চেয়ে সংস্কারের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
খালেকুজ্জামান বলেন, সার্বিক উন্নতির জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে। বাধা কিভাবে দূর করা যায় সেসব বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, নারীদের অবদান সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো হয়, তাদের ঘরেরকাজের মধ্যে আবদ্ধ রাখার প্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচার বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আরপিও এর মেয়াদ ছয় মাস থাকা সত্ত্বেও এই দুর্যোগকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করে।
ঝর্ণা বাড়ই বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ৩৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৪৫ বা ৫০ শতাংশ করতে হবে। শর্তপূরণের সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী নানা বাধার কারণে এগিয়ে আসতে পারে না।
