একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নিজ নিজ আসনের বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের প্রার্থীরা। তবে কবে নাগাদ এই মামলা করা হবে তা বলা হয়নি। একই সাথে বিএনপি ও গণফোরামের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা শপথ নিবেন না, সংসদেও যাবেন না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এই বৈঠকে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কয়েকজন প্রার্থী আলোচনা করতে চাইলে থামিয়ে দেন দলের মহাসচিব। দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বৈঠকে প্রার্থীরা তাদের নিজ এলাকার ভোটের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী করণীয় কি হতে পারে তা নিয়ে বক্তব্য দেন। বৈঠকে বিএনপির পাশাপাশি জেএসডি, গণফোরাম, খেলাফত মজলিশের ১৭৪ জন প্রার্থী উপস্থিত থাকলেও জামায়াতে ইসলামের কেউ ছিলেন না।
ফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনসহ গণফোরামের নির্বাচিত দুই সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোহাম্মদ মোকাব্বির খান বৈঠকে ছিলেন না। পরে ঐক্যফ্রন্টের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ধানের শীষের প্রত্যেক প্রার্থী তাদের অভিযোগ ও নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়ে মামলা করবেন। আর যেহেতু নির্বাচনের ফলাফলই আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই পরিষ্কার করে বলতে চাই— আমরা শপথ নিচ্ছি না। শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। সংসদেও যাব না। আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি এবং এই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুন:নির্বাচন দাবি করছি।
গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ভোট জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত চাইতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে ঐক্যফ্রন্ট। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যেহেতু এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি, ফলে কারও শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। এরপরও কেউ যদি শপথ নেয়, তাহলে সেটা জাতির সঙ্গে বেঈমানী করা হবে।
এদিকে বিএনপির বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সব প্রার্থীর নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় সংঘটিত অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, সহিংসতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এবং সন্ত্রাসের সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।
প্রার্থীদেরকে দুই নির্দেশনা দিয়ে বিএনপির চিঠি
গতকাল গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে আসা ধানের শীষের প্রার্থীদের হাতে কিছু নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি তুলে দেওয়া হয়। চিঠিতে নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে প্রার্থীদেরকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। একজন প্রার্থী জানান, দুইটি চিঠি দেয়া হয়েছে আমাদেরকে। এতে নির্বাচনের দিনের পূর্বাপর সরকারি বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের আঘাতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবার ও আহতদের সুচিকিত্সা দিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
