খলিলজাদের নয়া শান্তি মিশন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:১৩

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান-বিষয়ক বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। এই লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি মধ্য এশিয়ায় এক সপ্তাহের সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল এ সময়ে তার সঙ্গে ছিল। ফেব্রুয়ারিতে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শান্তিচুক্তি হয়। আফগানিস্তানে ১৯ বছর ধরে চলা যুদ্ধ ঊহ্য করতেই ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত বৈরী প্রতিপক্ষ তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসে। চুক্তি সম্পাদনের পরও দেশটিতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জঙ্গি হামলা হয়েছে, এতে বহু লোক প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে মার্চে একটি শিখ উপাসনালয় ও মে-তে একটি হাসপাতালে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। শনিবার শেষ হওয়া খলিলজাদের সফরের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এ কারণে ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম বোয়েলারের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল খলিলজাদের সঙ্গে কাতার, উজবেকিস্তান ও পাকিস্তান সফর করেছেন। করোনা মহামারির জন্য তারা আফগানিস্তানে না গেলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে আলাপ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র আফগনিস্তানকে কি ধরনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে যাচ্ছে তার বিস্তারিত অবশ্য খলিলজান প্রকাশ করেননি। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের বাজেটের ৭৫ শতাংশ আসে বৈদেশিক সহায়তা থেকে।

আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলছে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে। তাই সেখানে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনেকের সংশয় আছে। ফেব্রুয়ারিতে শান্তিচুক্তি হওয়ার পর আঞ্চলিক শক্তি ভারত ও রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক সাড়া পায়নি। সম্প্রতি এমন খবরও পাওয়া গেছে যে আফগানিস্তানে ন্যাটো সৈন্যদের হত্যা করতে রাশিয়া তালেবানকে মদত যুগিয়েছে। যাই হোক এরপরও ওয়াশিংটন হাল ছাড়তে নারাজ। শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আল-কায়েদা বা অন্য কোনো জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে তালেবান সম্পর্ক রাখবে না। আফগান ভূমিতে মার্কিন সৈন্যদের বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করবে না। এ ব্যাপারে তালেবানের প্রবল অনীহা আছে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, তারা চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, খলিলজাদের এই সফরের সপ্তাহ খানেক আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার বাজওয়া আফগানিস্তান সফর করেছেন।