বাঁশ ও হোগলাপাতা দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা!

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:৩৬

ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বর্ষার শুরুতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে খরস্রোতা মেঘনা। প্রবল ঘূর্ণিসে াত আর ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙছে নদীর কূল। গত কয়েক দিনের ভাঙনে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ছোট একটি বাজার ও বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনালের একাংশ বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়রা বাঁশ ও হোগলাপাতার বাঁধ দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে।

সত্তর বছরের প্রৌঢ় আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, জন্মের পর থেকেই নদী ভাঙনের শিকার হয়ে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার বসতঘর ৯ বার ভেঙেছে। এই সময়ে নদী ভাঙনের শিকার হলে মাথা গোঁজার আর কোনো ঠাঁই থাকবে না আমাদের। ষাট পেরোনো আব্দুল কাদির খা বলেন, এখন পর্যন্ত নিজের তৈরি বসতঘর ভেঙেছে তিনবার। তার আগে বাপারে ভিটা ভেঙেছে একাধিকবার। আশ্রয় স্থলটুকু ভেঙে নিয়ে গেলে যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনার ভাঙনের শিকার হয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। ভাঙনরোধে শেষ আশ্রয় স্থলটুকু বাঁচাতে প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের সাধ্যমতো আশপাশের চর থেকে সংগ্রহ করা হোগলাপাতা দিয়ে বাঁধ তৈরি করছেন। কয় ঘণ্টা বা কত মিনিট টিকবে এই বাঁধ জানা নেই তাদের। তবুও নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।

চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, ভাঙনরোধে আমরা কাজ করছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরিভিত্তিতে বালি ভর্তি বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এসব বস্তা ফেলা হবে।