খুলনা অঞ্চলের অপ্রচলিত ছয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:৩৬

এনামুল হক, খুলনা অফিস

দেশের চিংড়ি ও কাঁকড়ার সিংহভাগ রপ্তানি হয় খুলনা অঞ্চল থেকে। কয়েক বছর ধরে নানা কারণে সেটার প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এ অবস্থায় খুলনা অঞ্চল থেকে কয়েক জন উদ্যোক্তা অপ্রচলিত ছয়টি পণ্য ভারতসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে রপ্তানি শুরু করেছে। তবে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত এই রপ্তানি বন্ধ। করোনার প্রাদুর্ভাব কেটে গেলেই আবারও রপ্তানি শুরু হবে।

খুলনা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, যশোরের নওয়াপাড়া এবং ঝিনাইদহ থেকে অপ্রচলিত ছয়টি পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে নিয়মিতভাবে কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া দুই-একটি পণ্য মাঝেমধ্যে বিদেশে যাচ্ছে। মাটির তৈরি টালির পর অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে ট্রাভেল ব্যাগ, ম্যানেকুইন হেড এবং কটন র্যাগ (সূতি কাপড়ের ঝুট) নিয়মিত রপ্তানি পণ্য  হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া রিফ্লেকটিভ ভেস্ট, অ্যাঙ্গেল ব্যান্ড ও একাঙ্গী এখন অনিয়মিতভাবে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাস নিয়মিতভাবে ভারতে পিভিসি কাপড়ের তৈরি ট্রাভেল ব্যাগ ও কটন র্যাগ রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাভেল ব্যাগ থেকে  ২ কোটি ১১ হাজার ডলার ও কটন র্যাগ থেকে ৬ লাখ ৮ হাজার ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স ও ইটালিতে রপ্তানি হয়েছে ম্যানেকুইন হেড। এটি  থেকে ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলার দেশে এসেছে। আলোচিত সাতক্ষীরার মাটির টালি এখন নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, শ্লোভেনিয়া ও ইটালিতে রপ্তানি হচ্ছে। এ খাত থেকে দেশে এসেছে ১ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার ও ২ লাখ ২৮ হাজার ইউরো। একই সময়ে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যে রপ্তানিকৃত রিফ্লেকটিভ ভেস্ট থেকে দেশে এসেছে ১০ লাখ ৮৯ হাজার ডলার এবং ইতালিতে রপ্তানিকৃত অ্যাঙ্গেল ব্যান্ড থেকে দেশে এসেছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ভারতে রপ্তানি হওয়া পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক পণ্য একাঙ্গী (জেডোভেরি রুট)। গত অর্থবছরের সাত মাসের মধ্যে অক্টোবর, নভেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এ পণ্যটি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র অনুযায়ী, ঝিনাইদহ থেকে দুই জন ব্যবসায়ী একাঙ্গী ভারতে রপ্তানি করেছেন। তারা খুব বেশি দিন পণ্যটি রপ্তানি করছেন না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাসে তারা ১ লাখ ৩ হাজার ৩৫০ ডলার মূল্যের তিনটি কনসাইনমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের একাঙ্গী রপ্তানিকারক রাজিব আহমেদ জানান, হলুদ বা আদার মতো দেখতে এ কৃষি পণ্যটি চীন এবং ইউরোপেও রপ্তানি হচ্ছে। তিনি বলেন, একাঙ্গী রপ্তানিতে কোনো সরকারি প্রণোদনা পাওয়া যায় কি না তা আমার জানা নেই। সাতক্ষীরার কটন র্যাগ  রপ্তানিকারক সুজিত্ সরকার বলেন, কোনোরকম অসুবিধা ছাড়াই আমরা নিয়মিতভাবে কটন র্যাগ (টুকরো কাপড়) ভারতে রপ্তানি করছি। ব্যবসাটি মোটামুটি লাভজনক।

যশোরের নওয়াপাড়ার কটন র্যাগ রপ্তানিকারক আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বড় বড় রপ্তানিকারকদের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিলেও ঝুট কাপড় রপ্তানিকারকদের কোনো ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয় না। আমাদের ব্যাংক ঋণেরও কোনো ধরনের সুবিধা নেই।

খুলনা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, খুলনা অঞ্চল থেকে সম্প্রতি কিছু অপ্রচলিত পণ্য ভারতসহ কয়েকটি দেশে সামান্য আকারে রপ্তানি শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, করোনার প্রাদুর্ভাব কমে গেলেই এই পণ্যগুলোর রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।