আরও পাঁচ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের রোহিঙ্গা পরিবারকে মনিপুর সীমান্তে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই নিয়ে গত চার মাসে দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠালো ভারত।
মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এদের বেশির ভাগই বসবাস করছে আশ্রয় শিবিরে। ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার রোহিঙ্গাদের দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। গত বছরের ৪ অক্টোবর সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতে আপত্তি জানিয়েছিল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রোহিঙ্গা পরিবারটিকে বাসে করে সীমান্তে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ২০১৪ সালে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তানকে উত্তর-পূর্ব আসামে গ্রেফতার করা হয়। কারাদণ্ডও দেওয়া হয় তাদেরকে। আসাম পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ভাস্কর জয়তি মোহন্ত রয়টার্সকে বলেন, পাঁচ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
রাখাইনে সেনা ও বৌদ্ধদের সংঘাতে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইনে সশস্ত্র বৌদ্ধ গ্রুপের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এই অঞ্চলেই ২০১৭ সালের আগস্টে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। জীবন বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ডিসেম্বরের শুরু থেকে আরাকান আর্মির সেনা সংঘাতে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজার মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে।
