নিষেধাজ্ঞা ভেঙে শবরীমালা মন্দিরে দুই নারীর প্রবেশের ঘটনায় উত্তাল ভারতের কেরালায় বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দক্ষিণাঞ্চলীয় এ রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল ও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি যানবাহনের চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছে। লর্ড আয়াপ্পার মন্দির শবরীমালায় দশকের পর দশক ধরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়স্ক ঋতুমতী নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
গত বছর এক আদেশে সুপ্রিম কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে তা তুলে নিতে বললেও মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করে। বুধবার ভোরে ৪০ বছর বয়সী বিন্দু আম্মিনি ও ৩৯ বছরের কনক দুর্গা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এরপরই শুরু হয় তুলকালাম। বিন্দু ও কনককে মন্দির থেকে বের করে দিয়ে শুরু হয় ‘শুদ্ধিকরণ’। খবর পেয়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে ভাংচুর, বিক্ষোভ শুরু করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পরে রাজ্যজুড়ে ১২ ঘণ্টার ‘বন্ধ’ ডাকে। এই দু’জন গত মাসেও একবার মন্দিরটিতে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি ও সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেরালা হাইকোর্টের ১৯৯১ সালের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ থেকে ৫০ বছরের ঋতুমতী নারী ওই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না। সন্দেহজনক নারীদের মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে বয়সের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হয়। এই প্রথার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ আদালত তার রায়ে সেই বৈষম্য দূর করেন। সেই থেকে একাধিকবার মন্দির দর্শনে গেলেও কোনো ঋতুমতী নারী সফল হননি। কখনো সাধারণ দর্শনার্থী, কখনো মন্দির কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাধা দিয়েছেন। বুধবার ভোরে বিন্দু ও কনকদূর্গা সেই অসাধ্যসাধন করেন। লিঙ্গবৈষম্য সত্ত্বেও শবরীমালা মন্দির কর্তৃপক্ষর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। -বিবিসি
