রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি ডোবা থেকে মো: মামুন (১৭) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লাশ উদ্ধারের পর তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ- তাকে হত্যা করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। এদিকে একইদিন কলাবাগানে বাসায় রেদোয়ান আহম্মেদ মিয়াজী (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
খিলগাঁও থানার এসআই আবু জাফর হাওলাদার জানান, মামুনের বাসা খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায়। পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর কাঁঠালিয়ায়। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। গতকাল ভোরে নন্দীপাড়ার একটি রিকশার গ্যারেজের পেছনের ডোবায় তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। এরপরই সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি বলে জানান তিনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মৃতদেহের থুঁতনিতে হালকা জখমের ও গলার নিচে হালকা নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামুনের বড় ভাই মাসুদ রানার অভিযোগ, তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এদিকে গতকাল সকালে কলাবাগানের হাতিরপুল ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন রেদোয়ান আহম্মেদ মিয়াজী। তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। রেদোয়ানের বড় ভাই আহমেদুল হক মিয়াজী জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই রোদায়ান ইয়াবায় আসক্ত ছিল। বুধবার রাতে মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় অস্বাভাবিক আচরণ করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন যে যার মত। রেদোয়ান আলাদা কক্ষে ছিল। পরিবারের সদস্যরা সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন রেদোয়ান ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। রেদোয়ান ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজের ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
