দলীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এনামুল হক বিজয় ১০ দিন চিকিত্সাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল রবিবার সকালে মারা গেছেন। ছাত্রলীগ নেতা এনামুলের মৃত্যু সংবাদ পৌঁছার পর জেলা সদরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৬ জুন বিকালে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত প্রয়াত নেতা সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শোকসভায় যোগ দিতে আসার পথে শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় বিজয় গুরুতর আহত হন। প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও পরে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রবিবার তার মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা আব্দুল কাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চিকিত্সকরা এনামুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।
এ ঘটনায় আহত বিজয়ের বড় ভাই মো. রুবেল বাদী হয়ে ২৭ জুন বিকালে সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ চার/পাঁচ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পুলিশ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করে। এদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান বিজয়, জাহিদুল ইসলাম ও সাগর জেলহাজতে রয়েছেন। জামিনে মুক্ত রয়েছেন আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিন।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদ জানান, দোয়া মাহফিলের প্রোগ্রামে আসার পথে বাজার স্টেশন এলাকায় এনামুল হক বিজয়কে কুপিয়ে এবং লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সম্পাদক ও কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি মো. এনামুল হক বিজয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সকল নেতা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি এক শোকবার্তায় বলেন, এনামুলের মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এনামুলের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
