নিজের দলের হলেও অপরাধীর ছাড় নয় :কাদের

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২২:৩৮

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল রুট-৬, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। পদ্মা সেতুর ৩১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, দৃশ্যমান হয়েছে ৪ হাজার ৬৫০ মিটার। ৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর শতকরা ৮৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল রবিবার ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে একথা বলেন।

এদিকে ‘সরকার জেল ভর্তি করে ফেলেছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ত্রাণ চুরিসহ নানা অপরাধে যারা গ্রেফতার হচ্ছেন তাদের পরিচয়, তারা অপরাধী। সরকার নিজের দলের লোকজনকেও এ ব্যাপারে ছাড় দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণে অনিয়ম, মজুত করা—এসব অপরাধের জন্য ইতিমধ্যে অনেককেই গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা গ্রেফতার হয়ে জেলে আছেন। তার পরও বিএনপি প্রতিদিন অশ্লীল ভাষায় সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। আর সরকার সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। নদীশাসন কাজ শেষ হয়েছে শতকরা ৭৩ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। জাইকার অর্থায়নে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল রুট-৬-এর কাজ এগিয়ে চলেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তল দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাকালে থেমে থাকেনি নদীর খননকাজ। ইতিমধ্যে দুই দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টিউবের দুই দশমিক তিন কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। সম্প্রতি টানেলের অন্যান্য কাজেও পূর্ণ গতি ফিরে এসেছে। এ প্রকল্পের এ পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৫৬ ভাগ। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ থেমে নেই। সীমিত পরিসরে চলছে। চীনা ঠিকাদারের কিছুটা সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইতিমধ্যে আমরা চীনা দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছি। তবে এ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর-ঢাকা করিডোরের দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হয়েছে।’

সরকারকে বর্তমানে তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধ ও অসহায় মানুষকে সুরক্ষা, বন্যাকবলিত ১২টি জেলার মানুষের সুরক্ষা এবং আসন্ন ঈদে মানুষের ভিড় এড়ানো। রোজার ঈদে মানুষের অবাধ চলাচল, ভিড় সংক্রমণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। কোরবানির ঈদে এ সমাগম ও ভিড় যে কোনো মূল্যে এড়াতে হবে। নিজেদের বেঁচে থাকার স্বার্থেই এটা করতে হবে।